খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম (৯৩) মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) ভোরে বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের বড়মাইপাড়া গ্রামে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হিলচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজহারুল হক নাহিদ তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দা দিয়ে পাঁচ রাজাকারকে কুপিয়ে হত্যার সাহসিকতার জন্য আজও সখিনাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন স্থানীয়রা। তিনি ছিলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যিনি সরাসরি অস্ত্র হাতে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের নিকলী উপজেলার গুরুই গ্রামে সখিনা বেগম জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সোনাফর মিয়া এবং মা দুঃখী বিবি। নিঃসন্তান সখিনা বেগম স্বামী কিতাব আলীকে মুক্তিযুদ্ধের আগেই হারান। পরে বাজিতপুর উপজেলার বড়মাইপাড়া গ্রামে ভাগনি ফাইরুন্নেছা আক্তারের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং দীর্ঘ ৪০ বছর সেখানেই বসবাস করেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা নিয়াজ মামনুন রহমান পুটন জানান, “আমরা ছোটবেলা থেকেই তার কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছি। তিনি ছিলেন খেতাবপ্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।”
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সখিনার ভাগনে মতিউর রহমান সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন। তার মৃত্যুই সখিনাকে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে। তিনি তখন মুক্তিযোদ্ধাদের রাঁধুনি হিসেবে কাজ করলেও রাজাকারদের গতিবিধির খবরও সংগ্রহ করতেন। একসময় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও বুদ্ধি ও সাহসে পালিয়ে আসেন। পালিয়ে আসার সময় সঙ্গে নিয়ে আসেন একটি ধারালো দা, যেটি দিয়েই পরে পাঁচ রাজাকারকে হত্যা করেন।
ঐতিহাসিক সেই দাটি বর্তমানে সংরক্ষিত আছে ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।
মঙ্গলবার বাদ আসর জানাজা শেষে তাকে গুরুই গ্রামের শাহী মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড