খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে মাঘ ১৪৩২ | ৩১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দিনাজপুর জেলা হঠাৎ ঘন কুয়াশার আচ্ছাদনে ঢেকে গেছে, ফলে জনজীবন ও কৃষিকাজে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল থেকে শহর ও গ্রামীণ এলাকায় কুয়াশা এতটাই ঘন যে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে ধীরগতির যানজট দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিনাজপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বৃহস্পতিবারের ১৪.৪ ডিগ্রির তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি। তবে হঠাৎ কুয়াশা এবং শীতের তীব্রতায় তাপমাত্রার বৃদ্ধি প্রায় শূন্যে নামার মতো মনে হচ্ছে। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, “কয়েকদিন ধরে রোদ দেখা দিয়েছে, ফলে তাপমাত্রা বাড়ছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে হঠাৎ ঘন কুয়াশা পড়েছে। এটি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে যাবে।”
ঘন কুয়াশার কারণে কৃষকেরা এখন চরমভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বোরো ধান ও আলুর বীজতলা শীতের কারণে ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে। নতুন করে অনেক কৃষক তাদের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন, যাতে শীতের কারণে বীজ বা চারা নষ্ট না হয়। বিরল উপজেলার মতিউর রহমান বলেন, “কয়েকদিন আগে রোদ উঠেছিল, তাপমাত্রা বাড়ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঘন কুয়াশা পড়ার কারণে বোরো ধান ও আলুর বীজতলায় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।”
সদর উপজেলার শশরা ইউনিয়নের গহাইর গ্রামের মোকলেছুর রহমান জানান, “প্রচণ্ড শীতের কারণে বোরো বীজতলা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিচ্ছেন। বোরো চারা প্রস্তুত হলেও শীত ও শ্রমিক সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত বীজ রোপণ সম্ভব হচ্ছে না।”
নিম্নলিখিত টেবিলে সাম্প্রতিক দুই দিনের তাপমাত্রার তুলনামূলক তথ্য দেওয়া হলো:
| তারিখ | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (°C) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২৯ জানুয়ারি | ১৪.৪ | দিনের বেলায় রোদ দেখা যায় |
| ৩০ জানুয়ারি | ১৪.৫ | সকাল থেকে ঘন কুয়াশা |
ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে সাধারণ মানুষ, গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীরাও তীব্র কাহিলের শিকার হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আবহাওয়া পরিবর্তন শীতকালীন ফসলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কৃষকরা সতর্ক না হলে বীজতলা ও চারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এছাড়া যানজট ও দুর্ভোগ রোধে স্থানীয় প্রশাসন সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। মানুষকে সকালবেলায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ দিন রোদ ও হালকা তাপমাত্রার পরে হঠাৎ ঘন কুয়াশা ও শীতের প্রভাবে দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ ও কৃষকেরা বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।