খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
দিল্লির লাল কেল্লার কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুরো দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে কাছের হাসপাতালে অন্তত ৩০ জন আহতের চিকিৎসা চলছে। দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র সঞ্জয় ত্যাগী জানিয়েছেন, হুন্ডাই আই-টুয়েন্টি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। গাড়িতে থাকা তিনজনের মধ্যে কেউ বেঁচে গেছেন কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণ এতই শক্তিশালী ছিল যে তারা কয়েক মুহূর্তের জন্য হতবাক হয়ে যান। একজন বলেন, বিস্ফোরণে তার ঘরের জানালা কেঁপে ওঠে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে একটি দোকানের মালিক বলেন, বিস্ফোরণের ধাক্কায় তিনি তিনবার মাটিতে পড়ে যান, পরে নিজেকে সামলান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধী দল নেতা রাহুল গান্ধীসহ দেশ ও বিদেশের নেতারা বিবৃতি দিয়েছেন।
বিস্ফোরণের পর কলকাতা, মুম্বাইসহ বড় শহরগুলিতে রাত থেকেই বাড়তি পুলিশ বাহিনী বিশেষ তল্লাশি চালাচ্ছে। বিমানবন্দরগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও সতর্কতা জারি করেছে এবং লাল কেল্লা ও চাঁদনি চক এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, তারা উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় তিন হাজার কিলো বিস্ফোরক, বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পদার্থ, চারটি পিস্তল ও বন্দুক উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় দুই চিকিৎসকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অমিত শাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের চিকিৎসারত হাসপাতালে যান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি জানিয়েছেন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড ও ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বিস্ফোরণের তদন্তে নেমেছে। তাঁর কথায়, “সব দিক খতিয়ে দেখছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে ফলাফল জনগণের সামনে আনা হবে।” ঘটনাস্থলে উত্তরপ্রদেশ সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সময় ভিরু সিন্ধি খুব কাছে ছিলেন। তিনি জানান, সিগন্যাল লাল ছিল, গাড়িগুলি দাঁড়িয়ে ছিল, হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে এবং ছয়-সাতটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। জিশান নামে একজন অটোরিকশা চালক বলেন, বিস্ফোরণ তার গাড়ির ঠিক সামনেই ঘটেছে। এম্বুলেন্স চালক মুহাম্মদ আসাদ বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলছিল এবং আহতরা ছড়িয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় দোকানদার ওয়ালিউর রহমান বলেন, বিস্ফোরণের সময় তিনি দোকানে ছিলেন। বিস্ফোরণ এত জোরে ছিল যে তিনবার মাটিতে পড়ে যান, পরে নিজেকে সামলান। স্থানীয় বাসিন্দা রাজধর পান্ডে জানান, বিস্ফোরণের সময় তার বাড়ির জানালা কেঁপে উঠেছিল।
খবরওয়ালা/টিএসএন