খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত ও শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত দর্শনা হল্ট স্টেশনে অবশেষে ঢাকামুখী সুন্দরবন আপ এক্সপ্রেস ট্রেনটির থামার বিষয়টি কার্যকর হলো। গত রাত ১২টা ১২ মিনিটে ট্রেনটি প্রথমবারের মতো স্টেশনে দাঁড়ালে দর্শনার বাসিন্দারা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন।
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রা বিরতির প্রথম দিনে দর্শনা স্টেশনের জন্য ১৫টি টিকিট বরাদ্দ থাকলেও, প্রায় পঞ্চাশজন যাত্রী অন্যান্য স্টেশন থেকে ট্রেনের টিকেট সংগ্রহ করে দর্শনা স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করেন।
দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও দাবির ফলস্বরূপ অর্জিত এই সাফল্যের সাক্ষী হতে সন্ধ্যা থেকেই সব বয়সের মানুষ স্টেশনে ভিড় করতে থাকেন। রাতভর স্টেশন চত্বর আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে দর্শনার মানুষের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করা হয়।
গভীর রাতে ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করলে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং চালক, পরিচালকসহ রেলকর্মীদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান ও হাতে খাবার তুলে দেন। আগত যাত্রীদেরও ফুল ও খাবার দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের এই বিরতি পাওয়ার জন্য দর্শনাবাসীকে দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বারবার দাবি উত্থাপন করা হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হলে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে রেল কর্তৃপক্ষ গত মাসে এই সিদ্ধান্ত নেয়। গত রাতের প্রথম স্টপেজের মাধ্যমে এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ঘটে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, দর্শনা পৌর বিএনপির হাবিবুর রহমান বুলেট, চুয়াডাঙ্গা জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তানভির রহমান অনিক, জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল খালেক, দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, সমন্বয়ক মুকুল শাহ, সমন্বয়ক মশিউর রহমান, সমন্বয়ক ইকবাল হোসেন, জামায়াতের দর্শনা পৌর যুব বিভাগের সভাপতি তানজিল হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের দর্শনা থানা সভাপতি লোকমান হোসেন, জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, দর্শনা ডি এস মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোল্লা শফি উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৌহিদ হোসেন, আবিদ হাসান রিফাত, থানা যুবদলের সভাপতি জালাল উদ্দীন লিটন, যুগ্ম-আহবায়ক সরোয়ার হোসেন, ছাত্রদলের কলেজ শাখার পলাশ আহাম্মেদ, সহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
প্রথম দিনে দর্শনা থেকে মাত্র ১৫টি আসন বরাদ্দ থাকলেও পঞ্চাশের অধিক যাত্রী অন্য স্টেশন থেকে টিকিট কেটে ট্রেনে ভ্রমণ করেন। বক্তারা বরাদ্দের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।
সভায় নেতারা বলেন, এই অর্জন দর্শনার জনগণের ঐক্য ও সংগ্রামের ফল। তারা ভবিষ্যতে দর্শনা উপজেলা বাস্তবায়নের জন্যও সবাইকে সংঘবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। প্রায় দশ মিনিট অবস্থানের পর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।
খবরওয়ালা/টিএসএন