খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২৩ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে ইরান-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগ দেওয়ার কারণে। ইরান ইতিমধ্যেই সরাসরি হুমকি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের জবাবে তাদের সশস্ত্র বাহিনী ও মিত্ররা মিলে ‘কঠোর ও চূড়ান্ত’ প্রতিশোধ নেবে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে, ইরান খুব শিগগিরই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্বার্থের উপর বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালাতে পারে। এই সময় এক বা দুই দিনের মধ্যে হতে পারে।
গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে গোপন অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো—ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান—এ বিস্তৃত বিমান হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, এ হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘ধ্বংসের মুখে’ পড়েছে।
তবে ইরান তা অস্বীকার করে বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত পুনর্গঠন সম্ভব এবং এর মাধ্যমে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা যাবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি একাধিকবার স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরায়েল ও এর পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শাস্তি পেতেই হবে’।
এ ঘটনার পর ইরান ও এর মিত্র গোষ্ঠী হুতিরা নতুন করে রেড সি অঞ্চলে মার্কিন জাহাজের উপর হামলার হুমকি দিয়েছে। হিজবুল্লাহ নেতা নাসরাল্লাহর নিরাপত্তা প্রধানকেও সম্প্রতি ইরানের ভেতরে ইসরায়েলি হামলায় হত্যা করা হয়েছে। একের পর এক হামলা-প্রতিহিংসার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
যৌথ চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই ইরাক ও সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ হাজার সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। এসব বাহিনী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে সক্ষম হলেও হুমকি একেবারেই দূর হয়নি।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার আশঙ্কায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কিছু বিমান ও নৌযান মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দোহা শহরের কাছে আল উদেইদ এয়ার বেস—যা মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি এবং প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা সেখানে মোতায়েন রয়েছে।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে, অন্যদিকে ইরানকে কোনোভাবে শান্ত রাখতে কূটনৈতিক চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় ভয় হলো—যদি কোনো বড় হামলা হয়, তা আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।’
খবরওয়ালা/এন