খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
ফরিদপুরে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খাদ্য কর্মকর্তা তারিকুজ্জামানকে (৪৬) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার বিকেলে ফরিদপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে তারিকুজ্জামান জামিন আবেদন করলে বিচারক জিয়া হায়দার তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এরপর পুলিশ তাকে আদালত থেকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যায়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সরকারি চাল আত্মসাতের এই মামলাটি দায়ের করেছিল।
খাদ্য কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বড় পারুলিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীন শরীফের ছেলে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলীতে বসবাস করেন এবং প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে রেশনিং বিভাগের এলাকা রেশনিং কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
ফরিদপুর দুর্নীতি দমন সমন্বিত কার্যালয়ের সূত্র মতে, তারিকুজ্জামান সাবেক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) ও চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকাকালীন সানোয়ার হোসেন নামে আরেক খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে চরভদ্রাসন উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৫০১ টাকা মূল্যের চাল আত্মসাৎ করেন। এই অভিযোগে ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল দুদকের সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাশার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় এই দুই কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামি সানোয়ার হোসেন তখন বোয়ালমারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরিদপুর দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন গত ২৯ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তুলে ধরা হয়।
দুদক কর্মকর্তা ইমরান আকন জানান, দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তাদের প্রাথমিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই মামলায় তারিকুজ্জামান জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অপর আসামি সানোয়ার হোসেন এখনও পলাতক।
খবরওয়ালা/টিএসএন