খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১১ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে গত দেড় বছরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা। শুক্রবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মিয়ানমারে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের কারণে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পরিবার নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে প্রায় সময়ই সীমান্ত পেরিয়ে নতুন রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে প্রবেশ করছে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, বর্তমানে কক্সবাজারের মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যা এই এলাকাকে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী এলাকা হিসেবে পরিণত করেছে। নতুন করে আসা দেড় লাখ শরণার্থীর মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার জনের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
সংস্থাটির মতে, নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা বিভিন্ন মানবিক সহায়তা পেলেও অনিবন্ধিতদের জন্য তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত এসব মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা পুরোপুরি সাহায্যনির্ভর। ফলে নতুন শরণার্থী যুক্ত হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর আরও জানিয়েছে, বৈশ্বিক সহায়তা তহবিল এখন তীব্র সংকটে রয়েছে। অবিলম্বে অতিরিক্ত তহবিল নিশ্চিত না হলে সেপ্টেম্বরে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে, রান্নার জন্য ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস ফুরিয়ে যাবে। ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিশুর শিক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৩ হাজার শিশু সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউএনএইচসিআর ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সংস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে টেকসই শান্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ না আসা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/এন