খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে পবিত্র জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, আগামী ১০ জিলহজ অর্থাৎ ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদ্যাপিত হবে।
আজ সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে চাঁদ দেখার ঘোষণা তুলে ধরেন। ধর্মমন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় সব প্রান্ত থেকেই চাঁদ দেখার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে। ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর পরবর্তী ১০ দিনের মাথায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হয়ে থাকে।
ইসলামী বর্ষপঞ্জি বা হিজরি সনের দ্বাদশ ও শেষ মাস হলো জিলহজ। এই মাসের একটি অন্যতম প্রধান ধর্মীয় গুরুত্ব হলো মুসলিম সম্প্রদায়ের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য পবিত্র হজ পালন করা। জিলহজ মাসের ৯ তারিখে আরাফাতের ময়দানে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় এবং তার পরদিন অর্থাৎ ১০ জিলহজ বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অনুগত লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকেন।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হিজরি ১৪৪৭ সনের জিলহজ মাসের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| ধর্মীয় বিষয় ও দিবস | হিজরি তারিখ | গ্রেগরিয়ান (ইংরেজি) তারিখ | বারের নাম |
| জিলহজ মাসের সূচনা | ১ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি | ১৯ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার |
| পবিত্র হজ (আরাফাহ দিবস) | ৯ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি | ২৭ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার |
| পবিত্র ঈদুল আজহা | ১০ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি | ২৮ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার |
ঈদুল আজহা মুসলিম জাহানের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক তথা সামর্থ্যবান মুসলিমদের ওপর পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও আত্মত্যাগ প্রদর্শন করা। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর মহান ত্যাগের স্মৃতিকে স্মরণ করেই প্রতি বছর পবিত্র জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পশু কোরবানি করার এই ধর্মীয় নিয়ম পালিত হয়ে আসছে।
চাঁদ দেখা যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ মে সকালে ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ জামাতে আদায়ের পর ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়মে পশু কোরবানি করবেন।