খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ঘাটতির কারণে নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে পারেনি কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ। এর প্রভাবে দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে নতুনভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও সরকার বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে এপ্রিল মাসে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কোনো সংকট হবে না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, দেশে এখনো তেলের সংকট তৈরি হয়নি। ইতোমধ্যে কিছু জাহাজ এসে পৌঁছেছে এবং আরও কিছু জাহাজ আসার পথে রয়েছে। এপ্রিল মাসের আমদানিসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও পরিশোধিত ডিজেল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, আতঙ্কের কারণে অতিরিক্ত কেনাকাটার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক চাপ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার পর্যন্ত দেশে ডিজেলের প্রায় ১৪ দিনের মজুত ছিল। তবে সাধারণ মানুষের আগাম কেনাকাটার ফলে কয়েকটি এলাকায় সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
দেশে জ্বালানি তেলের আমদানি এবং মজুতের বর্তমান চিত্র নিম্নরূপ:
| জ্বালানি তেল | মজুত (টন) | কতদিন সরবরাহ সম্ভব | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ডিজেল | ১,৮৫,০০০ | ১৪ দিন | বাজারে চাপের কারণে কিছু এলাকায় ঘাটতি |
| অকটেন | ১১,০০০ | ৯ দিন | সরবরাহ আংশিকভাবে ব্যাহত |
| পেট্রোল | ১৬,৬০৫ | ১১ দিন | স্থিতিশীল সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত |
| ফার্নেস তেল | ৭০,৮৩৩ | ২৯ দিন | উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পর্যাপ্ত |
| জেট ফুয়েল | ৩৪,৮৭৭ | ২৩ দিন | বিমান ও শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট |
| কেরোসিন | ৮,৫৭১ | ৪৬ দিন | সাধারণ ও সরকারি ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত |
| মেরিন ফুয়েল | ১,৫০০ | ৪৪ দিন | সামুদ্রিক পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যবহারযোগ্য |
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০,০০০ টন অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আরও ১৭-১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব। তবে নতুন চালান যদি সময়মতো না আসে, উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে তিনটি বড় চাপ কাজ করছে—জাহাজ বিলম্ব, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং আতঙ্কজনিত চাহিদা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌপথের ব্যাহত চলাচল বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
সরকার সচেতনভাবে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা কার্যকর করছে এবং পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখার মাধ্যমে জনসাধারণকে নিশ্চিন্ত করার চেষ্টা করছে।