খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দেশে স্নাতক ডিগ্রিধারীর প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন বহন করছেন বেকারত্বের অভিশাপ। বিবিএসের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে উঠে আসা তথ্য বলছে, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মহীন বসে থাকা তরুণের সংখ্যা ১৭ ভাগ। যাকে অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত হিসাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মোট বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২০ হাজার। বছর ব্যবধানে বেড়েছে দেড় লাখেরও বেশি। এই সময়ে আশংকাজনকহারে বেড়েছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা।
বিবিএসের হিসাবে, দেশে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন স্নাতকই এখন বহন করছেন বেকারত্বের অভিশাপ। যা গেলো আট বছরে বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, আমার মনে হয় বিগত এক বছরে এই সংখ্যাটা সম্ভবত আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ এই সময়ের মধ্যে অর্থনীতির গুণগত পরিবর্তন তেমন একটা হয়েছে বলে তো মনে হয় না। সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিন্তু একটা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির বলেন, শিক্ষিত মানুষের মধ্যে বেকারত্ব যে কি ভয়াবহ সেটাই দেখাচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষিত মানুষরা অনেক বেশি বেকার থাকছেন। তারা অনেক চেষ্টা করছেন কিন্তু কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না। এই কাজ না খুঁজে পাওয়ার কারণ ইন্ডাস্ট্রির যে ধরণের রিকোয়ারমেন্ট সে রকম অনুযায়ী আমরা আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে পারিছ না।
স্নাতক পাস করে, দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেকার বসে আছেন ১৭ শতাংশেরও বেশি তরুণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে চাকরি বাজারের মিল না থাকায় বাড়ছে এই সংকট। যা সমাধানে দ্রুত সরকারকে উদ্যোগি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এছাড়া বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বাড়তি মনোযোগের তাগিদ দেন তারা।
ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের এ গবেষণা পরিচালক আরও বলেন, উদ্বেগের মতো চিত্র আমরা পেলাম। এখান থেকে আমাদের কাজের জায়গাটা তৈরি করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি একাডেমি লিকেজের মধ্যে একটা বিষয় আছে, সেটা হচ্ছে শুধুমাত্র তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করলেই হবে না। বরং তাদের পরামর্শ নিয়ে খুব দ্রুত আমাদের কারিকুলামটা পরিবর্তন করতে হবে।
বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক আরও বলেন, সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, উৎপাদন পরিস্থিতি এটা যদি বৃদ্ধি না পায় তাহলে তো কর্মসংস্থান দেশে বৃদ্ধি পাবে না।
বিবিএসের হিসাবে, দেশে বছর ব্যবধানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমেছে ১৭ লাখেরও বেশি।
খবরওয়ালা/এমইউ