খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে দেশে আরও আটটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৮৬ জন শিশু। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) মৃত আটটি শিশুর মধ্যে বিভাগীয় শহর ঢাকা ও সিলেটে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর বিবরণ নিচে উল্লেখ করা হলো:
ঢাকা বিভাগ: গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় হামের উপসর্গে তিনটি শিশু মারা গেছে।
সিলেট বিভাগ: এই বিভাগে একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগ: ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুটি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে একটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গের প্রকোপ শুরু হয়। ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশে মোট ৫৮৩টি শিশু এই রোগে প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি টেস্ট বা চিকিৎসকের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯০টি শিশু। অন্যদিকে, হামের স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে ল্যাব টেস্টের আগেই বা টেস্ট রিপোর্ট আসার আগেই মারা গেছে ৪৯৩টি শিশু।
একই সময়ে দেশে মোট ৬৯ হাজার ৬১২টি শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক আক্রান্ত শিশুর মধ্যে একটি বড় অংশকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৭০৫ জন। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৫২ হাজার ৫০টি শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উপসর্গযুক্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৬৯ হাজার ৬১২ জন হলেও, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারিভাবে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা গেছে ৮ হাজার ৯৯৬টি শিশুর শরীরে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হামের প্রকোপ, সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থতা এবং মৃত্যুর সামগ্রিক চিত্র একটি তালিকার মাধ্যমে নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | বিষয়ের বিবরণ | মোট সংখ্যা/পরিসংখ্যান |
| ০১ | হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট শিশুর সংখ্যা | ৬৯,৬১২ জন |
| ০২ | নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া মোট শিশুর সংখ্যা | ৮,৯৯৬ জন |
| ০৩ | হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশু | ৫৫,৭০৫ জন |
| ০৪ | চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শিশুর সংখ্যা | ৫২,০৫০ জন |
| ০৫ | নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যুর সংখ্যা | ৯০ জন |
| ০৬ | হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা | ৪৯৩ জন |
| ০৭ | হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা | ৫৮৩ জন |
উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, হামবিষয়ক প্রতিবেদন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি এবং সুস্থতার হার সন্তোষজনক হলেও মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই শিশুদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। রোগের বিস্তার রোধে এবং জটিলতা এড়াতে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা এবং আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি বলে স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।