কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় শুটার গান, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য অস্ত্র পাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার পোল্ট্রিমোড় চর এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। স্থানটি বিজিবির নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত বেইজ ক্যাম্প থেকে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে প্রায় চার কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত হলে ৪৭ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় বিজিবির ড্রোন ক্যামেরা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনাস্থল সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়। এতে মালিকবিহীন অবস্থায় নিম্নোক্ত অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়—
| উদ্ধারকৃত সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|
| বিদেশি পিস্তল | ১টি |
| ম্যাগাজিন | ১টি |
| গুলি | ৩ রাউন্ড |
| দেশীয় শুটার গান | ১টি |
| বড় রাম দা | ২টি |
| ছোট রাম দা | ৫টি |
| হাসুয়া | ৫টি |
| চাপাতি | ১টি |
| ছুরি | ১টি |
| মোট দেশীয় ধারালো অস্ত্র | ১৪টি |
তবে অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ দৌলতপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি জানায়, চলমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন ১৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মোট ৮টি বিদেশি পিস্তল, ২টি দেশীয় শুটার গান, ১২টি ম্যাগাজিন, ১৬ রাউন্ড গুলি ও ১৪টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ ও সীমান্তপথে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী জনপদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।