বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল, তবে এবার তারা তাদের পূর্ণ শক্তির দল নয়, বরং দ্বিতীয় সারির একাধিক খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত একটি স্কোয়াড। একই সময়ে ভারতীয় আইপিএল এবং পাকিস্তান সুপার লিগ চলমান থাকায় কিউইদের অনেক নিয়মিত তারকা ক্রিকেটারই এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে ব্যস্ত থাকবেন। ফলে বাংলাদেশ সফরে টম লাথামের নেতৃত্বে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ একটি দলই মাঠে নামবে।
তবে প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল হলেও বাংলাদেশ শিবিরে রয়েছে সতর্কতা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের মতে, নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলকেও হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি মনে করেন, ঘরের মাঠে খেললেও বাংলাদেশকে নিজেদের সেরাটা না দিলে বিপদে পড়তে হতে পারে।
নিউজিল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা আইপিএলে ব্যস্ত থাকবেন। ডেভন কনওয়ে ও ড্যারিল মিচেল খেলবেন পাকিস্তান সুপার লিগে। চোটের কারণে ক্রিস্টিয়ান ক্লার্কও অনুপস্থিত থাকছেন। ফলে অভিজ্ঞতার বড় ঘাটতি নিয়েই দল গঠন করতে হচ্ছে কিউইদের।
বাংলাদেশ অবশ্য র্যাঙ্কিং ও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দিক থেকেও এই সিরিজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। আগামী ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ নয়ে থাকা জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশ নবম স্থানে থাকলেও অবস্থান ধরে রাখা ও উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে তারা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারাতে পারলে রেটিং পয়েন্টেও বড় উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড পরিস্থিতি (সংক্ষেপে)
| বিষয় |
অবস্থা |
| নিয়মিত অধিনায়ক |
মিচেল স্যান্টনার (অনুপস্থিত) |
| নেতৃত্ব |
টম লাথাম |
| আইপিএল খেলোয়াড় |
স্যান্টনার, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র |
| পিএসএল খেলোয়াড় |
ডেভন কনওয়ে, ড্যারিল মিচেল |
| চোটজনিত অনুপস্থিতি |
ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক |
| দলের ধরণ |
দ্বিতীয় সারির স্কোয়াড |
বাংলাদেশ দল সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও টপ অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। উদ্বোধনী জুটির স্থিতিশীলতা না থাকায় বড় স্কোর গড়তে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে সাইফ হাসানের ফর্মহীনতা এবং ওপেনিং জুটির দ্রুত ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা নির্বাচকদের চিন্তায় রেখেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মনে করছে, এই সিরিজ ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে। কিউইদের পর অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষেও ঘরের মাঠে সিরিজ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দলকে আরও বড় পরীক্ষার মুখে ফেলবে।
আগামী ১৭ এপ্রিল মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে দিয়ে শুরু হবে দ্বিপাক্ষিক লড়াই। এরপর ২০ এপ্রিল একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ওয়ানডে এবং ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও আয়োজন করা হবে।
সিরিজ সূচি
| ম্যাচ |
তারিখ |
ভেন্যু |
| প্রথম ওয়ানডে |
১৭ এপ্রিল |
মিরপুর |
| দ্বিতীয় ওয়ানডে |
২০ এপ্রিল |
মিরপুর |
| তৃতীয় ওয়ানডে |
২৩ এপ্রিল |
চট্টগ্রাম |
| প্রথম টি-টোয়েন্টি |
২৭ এপ্রিল |
চট্টগ্রাম |
| দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি |
২৯ এপ্রিল |
চট্টগ্রাম |
| তৃতীয় টি-টোয়েন্টি |
২ মে |
মিরপুর |
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে শক্তি কম হলেও নিউজিল্যান্ড সবসময়ই শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে পরিচিত। তাই ঘরের মাঠে সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশকে সতর্ক ও পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলতে হবে।