খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ধনী গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে নাগরিক অস্থিরতা—ধর্মঘট, দাঙ্গা ও বিশৃঙ্খলা (SRCC)—এখন বীমা শিল্পের জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির উৎস হয়ে উঠেছে। এক দশক আগেও যে ঝুঁকি প্রায় অদৃশ্য ছিল, তা ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি বীমাকৃত ক্ষতিতে রূপ নিয়েছে বলে পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান হাউডেন রি’র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে তুলনামূলক কম দাবি এলেও ২০২৬ সালে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ক্ষতি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক বৈষম্য, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং নীতিগত অস্থিরতা—এই তিনের সমন্বয়ে ধনী দেশগুলোতে প্রতিবাদের ঝুঁকি বেড়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমা বিশ্বের বহু নাগরিকই আর প্রজন্মগত সম্পদ বৃদ্ধির আশা দেখছেন না—যা অসন্তোষকে তীব্র করে। ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের প্রথম প্রান্তিকের তথ্যে দেখা যায়, SRCC ঝুঁকির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিমা গণতন্ত্রগুলোর মধ্যে শীর্ষে এবং সামগ্রিকভাবে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে; ফ্রান্স সপ্তম। এসব সূচক কেবল অস্থিরতার সম্ভাবনাই নয়, সম্পত্তি পুনর্গঠনের ব্যয়ও বিবেচনায় নেয়।
উচ্চ ঝুঁকির দেশসমূহ (SRCC সূচক)
দেশ বৈশ্বিক অবস্থান মন্তব্য
যুক্তরাষ্ট্র ৫ পশ্চিমা গণতন্ত্রে সর্বোচ্চ ঝুঁকি
ফ্রান্স ৭ ইউরোপে উচ্চ মেরুকরণ ও প্রতিবাদ
পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের নিচে উদীয়মান বাজার ঝুঁকি
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিচে রাজনৈতিক-সামাজিক সংবেদনশীলতা
ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নিচে বৃহৎ বাজার, বিচ্ছিন্ন অস্থিরতা
বীমা কভারেজে SRCC সাধারণত অন্যান্য পলিসির সঙ্গে যুক্ত থাকে। তবে ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আলাদা কভার নিচ্ছে এবং খুচরা সম্পদ—বিশেষত শপিং মল ও শহুরে বাণিজ্যিক সম্পত্তি—উচ্চ প্রিমিয়ামের মুখে পড়ছে। ২০২৪ সালে লয়েডস অব লন্ডন SRCC-কে স্বতন্ত্র কোড দেয়; ২০২৫ সালে ভেরিস্ক যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক প্রথম SRCC ক্যাটাস্ট্রফি মডেল প্রকাশ করে।
শিল্পখাতের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অ্যালিয়াঞ্জ রিস্ক ব্যারোমিটার ২০২৬–এ ‘রাজনৈতিক ঝুঁকি ও সহিংসতা’ বৈশ্বিক ঝুঁকির তালিকায় ৭ নম্বরে উঠে এসেছে; যুদ্ধের পরেই নাগরিক অস্থিরতা বড় উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত। একই সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ এক্সপোজার অঞ্চলের মধ্যে ধরা হয়েছে, যেখানে বড় আকারের প্রতিবাদ ও সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, SRCC ক্ষতির ধারা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একক কোনো ঘটনায় ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি এখন আর অসম্ভব নয়। কিছু ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে করপোরেট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক ঝুঁকি মডেলিং এবং পর্যাপ্ত কভারেজ নিশ্চিত করা—সবই হয়ে উঠছে ব্যবসার টেকসইতার পূর্বশর্ত।