খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
তিন দশকের সমৃদ্ধ সংগীতজীবনে অগণিত হিট গান রচনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা এবং দুটি অস্কার—বিশ্বসংগীতের পরিমণ্ডলে যার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, সেই এ আর রহমান সম্প্রতি বলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন।
‘মাদ্রাজ মোজার্ট’ খ্যাত এ সুরকারের দাবি, গত আট বছরে তিনি বলিউডে একাধিক কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। তার মতে, এ বিষয়ে মূলত দুইটি বিষয় প্রভাব ফেলেছে: প্রথম, ক্ষমতার হাতে পরিবর্তন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অপ্রাসঙ্গিক ও অযোগ্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ; এবং দ্বিতীয়, ধর্মীয় বিভাজনের সম্ভাব্য প্রভাব। রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
“ক্ষমতার বদলের পর থেকেই কাজের সুযোগ কমতে শুরু করেছে। যাঁদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, তাঁরা অনেকেই সৃজনশীল নন। সঙ্গে ধর্মীয় বিভাজনের বিষয়টিও যুক্ত থাকতে পারে। কেউ সরাসরি বলেনি, তবে কানাঘুষো শোনা যায়।”
দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দক্ষিণী চলচ্চিত্রে এ আর রহমানের কাজের পরিমাণ বলিউডের তুলনায় অনেক বেশি। এই নিয়েই চলছিল নানা জল্পনা, যা এবার তিনি নিজেই স্পষ্ট করেছেন।
রহমানের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবির বিজেপিকে নিশানা করেছেন, তবে শাসকদল অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতাওয়ালে বলেন,
“রহমানের অভিযোগের সঙ্গে একমত হতে পারি না। হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে সালমান খান, শাহরুখ খান, আমির খানসহ বহু মুসলিম শিল্পী রয়েছেন, যাঁদের দেশে ও বিদেশে বিশাল জনপ্রিয়তা রয়েছে।”
বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি সৈয়দ ভাষাও রহমানের দাবি খারিজ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন,
“বিজেপি সরকারের আমলে কাজ পাননি—এ কথা সঠিক নয়। নইলে ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’, ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’র মতো কাজ সম্ভব হতো না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই তিনি ২০২২ সালে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।”
নিচের টেবিলে এ আর রহমানের সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র এবং অর্জিত পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখানো হলো:
| সন | চলচ্চিত্র | পুরস্কার / স্বীকৃতি |
|---|---|---|
| 2009 | স্লামডগ মিলিয়নেয়ার | দুটি অস্কার (সেরা মিউজিক স্কোর, সেরা সঙ) |
| 2013 | মাদ্রাজ ক্যাফে | জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা সঙ্গীত পরিচালক) |
| 2022 | যুগান্তরক চলচ্চিত্র | জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা সঙ্গীত) |
সব মিলিয়ে, বিজেপি শাসনকালে এ আর রহমানের বলিউডে অবস্থান নিয়ে তত্ত্বটি বিতর্কিত। তবে সুরকারের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তাকে এখনও ভারতের সংগীতাঙ্গনে এক অনন্য অবস্থানে রেখেছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটের আলোকে বলিউডে তার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং শিল্পী নীতি নিয়ে এখন নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।