খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
পাবনার বেড়া উপজেলায় এক রিকশাচালকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে উপজেলার বড়শিলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে ফজলু রহমান (৫৫) নামের ওই ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং হত্যার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিহত ফজলু রহমান বেড়া পৌরসভার হাতিগাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আ. মান্নানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং এলাকায় একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যু পরিবার ও প্রতিবেশীদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কৃষিকাজে বের হওয়া কয়েকজন ব্যক্তি বড়শিলা গ্রামের একটি ধানক্ষেতে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে তারা নিশ্চিত হন যে সেটি ফজলু রহমানের দেহ। মরদেহের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। ঘটনাস্থলের পাশে তার ব্যবহৃত রিকশাটি অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে হত্যার উদ্দেশ্য ছিনতাই নাও হতে পারে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেড়া থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশপাশের এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছে।
বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফজলু রহমানকে কৌশলে ডেকে নিয়ে রাতের কোনো এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মরদেহটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিম্নে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | ফজলু রহমান (৫৫) |
| পেশা | রিকশাচালক |
| বাসস্থান | হাতিগাড়া গ্রাম, বেড়া পৌরসভা |
| উদ্ধার স্থান | বড়শিলা গ্রামের ধানক্ষেত |
| উদ্ধার সময় | শুক্রবার সকাল (২০ মার্চ) |
| প্রাথমিক ধারণা | গলা কেটে হত্যা |
| তদন্তের অবস্থা | চলমান |
এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুতই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।