খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
ভারতের কর্নাটক রাজ্যের গোকর্ণে রামতীর্থ পাহাড়ের একটি প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ গুহায় দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে বসবাস করছিলেন নিনা কুটিনা (৪০) নামের এক রাশিয়ান নারী। গত ৯ জুলাই বিকেলে, পাহাড়ে টহলরত পুলিশের একটি দল এই ঘটনাটি উদ্ঘাটন করে। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় প্রশাসন, শিশু কল্যাণ বিভাগ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
গোকর্ণ থানার ইনস্পেক্টর শ্রীধর এস আর এর নেতৃত্বে একটি টহলদল পাহাড়ি অঞ্চলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। এ সময় তারা ভূমিধসপ্রবণ এবং বন্যপ্রাণীতে পূর্ণ এক দুর্গম গুহার সামনে নড়াচড়ার শব্দ পেয়ে এগিয়ে যান। সেখানে তাঁরা খুঁজে পান নিনা কুটিনা এবং তার দুই কন্যা, প্রেমা (৬ বছর ৭ মাস) ও আমেকা (৪ বছর)।
জিজ্ঞাসাবাদে নিনা জানান, তিনি গোয়া থেকে গোকর্ণে এসেছেন আধ্যাত্মিক নির্জনতা ও ধ্যানচর্চার উদ্দেশ্যে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকার জন্যই তিনি এই গুহা বেছে নিয়েছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, কারণ পাহাড়টি ভূমিধসপ্রবণ এবং বিষাক্ত সাপসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও শিশু কল্যাণ বিভাগ পরবর্তীতে মা ও মেয়েদের উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনে। নিনার অনুরোধে তাঁদের সাময়িকভাবে কুমতা তালুকের বান্ধিকোডলা গ্রামের একটি আশ্রমে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে ৮০ বছর বয়সী সন্ন্যাসিনী স্বামী যোগবত্ব সরস্বতী আশ্রয় দেন।
তদন্তে জানা যায়, শুরুতে পাসপোর্ট ও ভিসা সম্পর্কিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান নিনা। কিন্তু পরে পুলিশ ও কল্যাণ কর্মকর্তাদের বোঝানোর পর তিনি জানান, তাঁর নথিপত্র গহীন জঙ্গলে হারিয়ে গেছে। বন বিভাগ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নথিপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এই ঘটনা শুধু এক ব্যতিক্রমী আধ্যাত্মিক সন্ধান নয়, বরং শিশুদের জীবনের ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নীতির জটিলতা সম্পর্কেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএস