খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় খাসির মাংসের নামে কুকুরের মাংস বিক্রির এক লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ী বাজারে রোববার সকালে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত দুই কসাই খাসির মাংসের আড়ালে কুকুরের মাংস সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করছিলেন বলে স্থানীয়রা হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েছেন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবাড়ী বাজারের নেংড়াপীর-ইসবপুর সড়কের তেতুলতলী মোড়ে অবস্থিত একটি দোকানে দীর্ঘ দিন ধরে খাসির মাংস বিক্রি করে আসছিলেন অলি শাহর ছেলে এমতাজুল (এনতাজুল) এবং তার সহযোগী আহমদ হোসেনের ছেলে দুলু মৌলভী। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালেও তারা বাড়ি থেকে মাংস নিয়ে এসে দোকানে বিক্রি শুরু করেন।
তবে সন্দেহ দানা বাঁধে যখন স্থানীয় কিছু মানুষ এমতাজুলের বাড়িতে একটি কুকুর জবাই করার খবর পান। বিষয়টি বাজারে জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা দোকানের মাংস পরীক্ষা করতে উদ্যত হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং মানুষের চাপের মুখে অভিযুক্ত দুই কসাই দোকানের মাংস ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবরটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ দোকানটির সামনে ভিড় জমান।
ঘটনার খবর পেয়ে জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ধামইরহাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দোকান থেকে জবাই করা প্রাণীর অবশিষ্টাংশ ও মাংস উদ্ধার করে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেগুলো কুকুরের মাংস বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
টেবিল: ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও উদ্ধারকৃত তথ্যাদি
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার স্থান | মঙ্গলবাড়ী বাজার, তেতুলতলী মোড়, ধামইরহাট, নওগাঁ |
| মূল অভিযুক্ত | এমতাজুল (এনতাজুল কসাই) |
| সহযোগী অভিযুক্ত | দুলু মৌলভী |
| উদ্ধারকৃত মাংসের পরিমাণ | প্রায় ২৫ কেজি (জবাইকৃত কুকুর) |
| বর্তমান অবস্থা | মাংস অপসারণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তরা পলাতক |
| আইনি পদক্ষেপ | ধামইরহাট থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন |
জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, কসাইরা সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে কুকুরের মাংস খাসি হিসেবে বিক্রি করছিল। অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে কুকুর জবাইয়ের খবর আসার পর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত প্রায় ২৫ কেজি কুকুরের মাংস জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে দ্রুত মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। জনমনে শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পলাতক কসাইদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল এই এক দিন নয়, বরং অনেক দিন ধরেই এই চক্রটি মানুষকে কুকুরের মাংস খাইয়ে আসছিল। তারা অবিলম্বে এই অসাধু ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দোকানটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করার দাবি জানিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো বেওয়ারিশ কুকুরের মাংস মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি নানা ধরণের সংক্রামক রোগের কারণ হতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকার সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার এবং সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড দেখলে তাৎক্ষণিক খবর দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ধামইরহাটের এই ঘটনাটি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।