খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি হঠাৎ তীব্র নগদ অর্থের ঘাটতির মুখে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে। গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার চাহিদা পূরণ এবং ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার (৯ জুন) ব্যাংকটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এই বিশেষ তহবিল সহায়তার আবেদন জানানো হয়। সম্প্রতি এই ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে নানামুখী বিতর্ক ও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে ব্যাংকটির গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে বেশ কিছু দিন ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে গত মাত্র এক সপ্তাহে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি নগদ অর্থ তুলে নেন গ্রাহকেরা। বিপুল পরিমাণ আমানত একযোগে বাজার থেকে চলে যাওয়ার কারণে ব্যাংকটি সাময়িকভাবে বড় ধরনের তারল্য বা নগদ টাকার সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই বিশাল অঙ্কের জরুরি তহবিল চেয়ে আবেদন করার বিষয়টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের এই বিষয়ে অবহিত করে জানান যে, ইসলামী ব্যাংক তাদের বর্তমান সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা ধারের একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই আবেদনটি আমলে নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করলেও, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকটিকে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।
আর্থিক খাতের নিয়মানুযায়ী, কোনো ব্যাংকে এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত উত্তোলনের চাপ তৈরি হওয়া অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা। এটি ব্যাংকের দৈনিক নগদ জমা বা বাধ্যতামূলক তারল্য সংরক্ষণের ওপর সরাসরি মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই আকস্মিক আর্থিক চাপ সামাল দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের টাকা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ধরে রাখতেই মূলত ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছে।
নিচে ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপট, গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন এবং ধারের আবেদনের মূল যাচাইকৃত তথ্যসমূহ একটি নির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক সংখ্যা | বিবরণ ও খাতের নাম | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| ১ | কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কাঙ্ক্ষিত ঋণের পরিমাণ | ১০ হাজার কোটি টাকা |
| ২ | ধারের জন্য আবেদন করার সুনির্দিষ্ট দিন | মঙ্গলবার, ৯ জুন |
| ৩ | গত এক সপ্তাহে গ্রাহকদের উত্তোলিত আমানত | ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি |
| ৪ | আর্থিক ও সামগ্রিক সংকটের মূল উৎস | নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিতর্ক এবং গ্রাহক ফোরামের আন্দোলন |
| ৫ | আবেদনের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান | টাকা দেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি |
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো তফসিলি ব্যাংক সাময়িক তারল্য বা নগদ অর্থের সংকটে পড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন শর্ত ও মেয়াদে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান করে থাকে। তবে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকটটি যেহেতু প্রশাসনিক বিতর্ক ও গ্রাহকদের আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত, তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে এই ধারের আবেদনের প্রতিটি দিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।