খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কিত নতুন নীতিমালা জারি করেছে। নতুন নির্দেশনায় ঋণসীমা প্রায় দ্বিগুণ করে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ সুদের হার ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং দায়িত্বশীল ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করা।
আগের নীতিমালায় ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা ছিল জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা। নতুন নীতিমালায় এটি বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ২০ লাখ এবং ৪০ লাখ টাকা হয়েছে। নগদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কার্ডধারীরা তাদের মোট ক্রেডিট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদে তুলতে পারবেন। তবে নগদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো সুদমুক্ত সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।
| ঋণের ধরন | পূর্ববর্তী সীমা (টাকা) | নতুন সীমা (টাকা) |
|---|---|---|
| জামানত ছাড়া | ১০,০০,০০০ | ২০,০০,০০০ |
| জামানতের বিপরীতে | ২৫,০০,০০০ | ৪০,০০,০০০ |
নতুন নীতিমালায় সুদ এবং ফি সংক্রান্ত স্পষ্ট নিয়ম দেওয়া হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদ হার ২৫ শতাংশ। সুদ কেবল বকেয়া টাকার ওপর আরোপযোগ্য। কার্ড সচল করার আগে কোনো ফি বা মাশুল নেওয়া যাবে না। বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিলম্ব ফি মাত্র একবার আরোপ করা যাবে। সুদ বা অন্যান্য চার্জ পরিবর্তনের জন্য ব্যাংককে অন্তত ৩০ দিন আগে গ্রাহককে লিখিত বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জানাতে হবে।
নতুন নীতিমালায় গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক বা তাদের নিযুক্ত রিকভারি এজেন্ট গ্রাহককে মানসিক বা শারীরিকভাবে হয়রানি করতে পারবে না। গ্রাহকের পরিবার, বন্ধু বা রেফারেন্স হিসেবে দেওয়া ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। বকেয়া আদায়ের জন্য ফোন কল বা সরাসরি যোগাযোগ কেবল অফিস সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কার্ড হারানো বা চুরি হলে তাৎক্ষণিক ব্লক করার জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে।
ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। তবে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা, যারা প্রধান কার্ডধারীর ওপর নির্ভরশীল, তারা সম্পূরক বা সাপ্লিমেন্টারি কার্ড ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া আবেদনকারীর ই-টিন সনদ এবং পরিষ্কার সিআইবি প্রতিবেদন থাকা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের পরিসর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীল ঋণ বিতরণ উৎসাহিত করতেই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০০৪ সালের আগের নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে এবং আধুনিক আর্থিক প্রেক্ষাপটে নিরাপদ ও স্বচ্ছ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।