খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বগুড়া জেলার নন্দীগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পরিচালিত সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পরিচালিত এই অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, তাজা গুলি এবং বিপুল সংখ্যক দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সফল অভিযানের ফলে এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের তেতুলিয়াগাড়ি এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেজর মেহেদী হাসান, ক্যাপ্টেন জিসান ও লেফটেন্যান্ট ফাতিন। সেনাসদস্যরা প্রথমে তেতুলিয়াগাড়ি এলাকার বাসিন্দা আব্দুস ছালামকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছালাম তার কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার নিজ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি আলমারির ভেতর থেকে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র। এ সময় অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে ছালামের দুই সহযোগীকেও আটক করা হয়।
নিচে অভিযানে আটককৃতদের পরিচয় ও উদ্ধারকৃত মালামালের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও তথ্য |
| আটক ব্যক্তি ১ | আব্দুস ছালাম (৩০), পিতা: মৃত আব্দুল জব্বার (নন্দীগ্রাম) |
| আটক ব্যক্তি ২ | আবু বক্কর (২৮), পিতা: আব্দুস ছাত্তার (নন্দীগ্রাম) |
| আটক ব্যক্তি ৩ | পারভেজ (২৫), পিতা: আবু মুসা (শাজাহানপুর) |
| উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র | ০১টি উন্নত মানের চায়নিজ পিস্তল |
| গোলাবারুদ | ০৫ রাউন্ড তাজা গুলি |
| দেশীয় অস্ত্র | ৩৫টি বিভিন্ন ধরনের ধারালো দেশীয় অস্ত্র |
| অভিযান পরিচালনাকারী | বাংলাদেশ সেনাবাহিনী |
বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ধারকৃত ৩৫টি দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও ধারালো ছোরা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কোনো বড় ধরনের ডাকাতি, সন্ত্রাসী হামলা বা নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী শাজাহানপুর উপজেলার একজন সহযোগীসহ তাদের এই অবস্থান একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ইঙ্গিত দেয়।
অভিযান শেষে উদ্ধার করা অস্ত্র ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। লেফটেন্যান্ট ফাতিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, আটকদের জব্দকৃত আলামতসহ নন্দীগ্রাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এই চক্রের সাথে আরও বড় কোনো গডফাদার বা রাজনৈতিক প্রভাবশালীর যোগসাজশ আছে কি না।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সঠিক তথ্য প্রদান একান্ত কাম্য।