খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর জোয়ারা গ্রামের ১৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ ফাহাদ চাকরির আশায় দক্ষিণ আফ্রিকায় যাত্রা করলেও ফেরার আগেই জীবন হারালেন। তার বাবা নুর মোহাম্মদ (৪৫) বলেন, “আমার ছেলে চাকরির আশা নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ফিরল লাশ হয়ে। ওরা আমার ছেলেকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলল। এখন আমি ছেলে কই পাব।”
ফাহাদ ৩০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে বিমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার পথে রওনা হন। প্রথমে ইথিওপিয়া হয়ে জিম্বাবুয়ে হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে দালালের মাধ্যমে ফাহাদকে ইথিওপিয়া পর্যন্ত বিমানযাত্রা দেওয়ার পর, তাকে জঙ্গলের পথ ধরে জিম্বাবুয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সড়কপথে ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছান ফাহাদ।
ফাহাদের পরিবার ধারণা করছে, দীর্ঘ পথযাত্রা, অনাহার, অসুস্থতা এবং চিকিৎসার অভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ফাহাদের ব্যাগে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার এবং ২০০ ডলার দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জঙ্গলের পথে সবকিছু ছিনতাই হয়ে যাওয়ায় সে কষ্ট ভোগ করতে বাধ্য হয়।
ফাহাদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা ইউনিয়নের জামে মসজিদ মাঠে জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় স্বজন ও এলাকার বিপুল মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ফাহাদের বাবা নুর মোহাম্মদ জানান, “দালালরা শুধুমাত্র ইথিওপিয়া পর্যন্ত বিমানের টিকিট দিয়েছে। এরপর তারা আর বিমানে নিতে চায়নি। এ কারণে আমার ছেলে মারা গেছে।”
দক্ষিণ আফ্রিকার মুসিনা শহরের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শামীম ফাহাদের লাশ দেশে আনার ক্ষেত্রে সহায়তা করেন। শামীম জানান, তিনি ফাহাদকে যেখানে রাখা হয়েছিল তার আশপাশে একটি দালালকে ঘুরতে দেখেন। সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে ফাহাদের কক্ষে প্রবেশ করে মরদেহটি দেখতে পান। এরপর পাসপোর্ট ও কাগজপত্র দেখে পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
নুর মোহাম্মদ শামীমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “শামীম ভাই না থাকলে ছেলের লাশটাও পেতাম না। দালালরা লাশটি লুকিয়ে রাখত। আপনারা সবাই আমাকে সাহায্য করেছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
| তারিখ | স্থান/পদক্ষেপ | বিবরণ |
|---|---|---|
| ৩০ জানুয়ারি | ঢাকা, বাংলাদেশ | বিমানযোগে যাত্রা শুরু |
| ৩০ জানুয়ারি | এথিওপিয়া | ট্রানজিট স্টপ; বিমান থেকে নেমে দালালদের মাধ্যমে জঙ্গলের পথ ধরে পাঠানো হয় |
| ১৫ ফেব্রুয়ারি | জিম্বাবুয়ে → দক্ষিণ আফ্রিকা | সড়কপথে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশ |
| ১৫ ফেব্রুয়ারি | দক্ষিণ আফ্রিকা | মৃত্যু; পরিবারের কাছে প্রথম খবর আসে |
| ২৭ ফেব্রুয়ারি | উত্তর জোয়ারা, চন্দনাইশ, বাংলাদেশ | মরদেহ দেশে পৌঁছে, জানাজা ও দাফন সম্পন্ন |
ফাহাদের দাফন ও এই ঘটনায় পরিবার এবং স্থানীয়রা মানবপাচার ও অবৈধ শ্রমবাজারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।