খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৯ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে ধর্ষণের অভিযোগে এক বৃদ্ধকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। ১৯ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার দুপুরে মাধবদী থানাধীন মহিষাসুরা ইউনিয়নের বালুসাইর উত্তরপাড়া গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম আজাদ (৫৭), যিনি ওই এলাকারই একজন বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন দুপুরে স্কুল ছুটির পর সে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ তাকে একা পেয়ে বিভিন্ন প্রলোভন ও কৌশলে ফুসলিয়ে নিজের নির্জন বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ওই কোমলমতি শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
পৈশাচিক এই কর্মকাণ্ডের পর শিশুটি যাতে কাউকে কিছু না বলে, সেজন্য অভিযুক্ত আজাদ তাকে একটি আইসক্রিম কিনে দিয়ে দ্রুত বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তবে বাড়িতে ফেরার পর শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে তার মা-বাবার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিশুটি তার পরিবারের সদস্যদের কাছে সমস্ত ঘটনা বিস্তারিত খুলে বলে।
সন্তানের মুখে এই লোমহর্ষক বর্ণনা শোনার পর শিশুটির বাবা ও স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘটনার জানাজানি হলে মুহূর্তের মধ্যে গ্রামের শত শত মানুষ আজাদের বাড়ির সামনে জড়ো হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তের বসতবাড়িতে সামান্য ভাঙচুর চালায়। তবে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটিকে ঘটনার পরপরই উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) তার শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মতে, শিশুটি বর্তমানে মানসিকভাবে প্রচণ্ড আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান যে, অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ঘটনার স্থান | বালুসাইর উত্তরপাড়া গ্রাম, মহিষাসুরা ইউনিয়ন, মাধবদী। |
| ঘটনার সময় | ১৯ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার; দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট। |
| অভিযুক্তের নাম ও বয়স | আবুল কালাম আজাদ (৫৭)। |
| ভুক্তভোগীর পরিচয় | স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাত বছর বয়সী ছাত্রী। |
| বর্তমান অবস্থান (অভিযুক্ত) | মাধবদী থানা পুলিশ হেফাজতে। |
| বর্তমান অবস্থান (ভুক্তভোগী) | নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। |
| গৃহীত পদক্ষেপ | মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান এবং ফরেনসিক পরীক্ষা শুরু। |
এই পৈশাচিক ঘটনাটি পুরো নরসিংদী জেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি তুলেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের অপরাধ রোধে পাড়ায় পাড়ায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে বলে আশা করা যায়।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে পেশ করা হবে যাতে ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায়বিচার পায়। একইসাথে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত থাকলেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখছে।