খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করার অভিযোগে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। উক্ত অভিযানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দসহ এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উপজেলার জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নের হাসানপুর বাজারে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের নিকট গোপন সংবাদ ছিল যে, হাসানপুর বাজারের একটি চক্র অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে হাসানপুর বাজারের মেসার্স জলিল এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দীর্ঘ চার ঘণ্টার অভিযানে উক্ত প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে মজুতকৃত বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও কেরোসিন উদ্ধার করা হয়। সরকারি নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং যথাযথ লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ জনবহুল বাজারের ভেতর মজুত করা হয়েছিল।
অভিযান শেষে প্রশাসন কর্তৃক জব্দকৃত জ্বালানি তেলের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত তেলের বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। নিচে জব্দকৃত তেলের একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| জব্দকৃত সামগ্রীর নাম | পরিমাপ (লিটার) | অভিযানের স্থান |
| ডিজেল | ৫,৫০০ লিটার (প্রায়) | মেসার্স জলিল এন্টারপ্রাইজ |
| কেরোসিন | ২৪ লিটার | মেসার্স জলিল এন্টারপ্রাইজ |
| মোট | ৫,৫২৪ লিটার | হাসানপুর বাজার |
অভিযানে অবৈধ মজুতদারির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল জলিলকে আটক করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ ও বিপণনের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিল্টন চাকমা অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আটককৃত ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ ধরণের অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে দাহ্য পদার্থ মজুতের ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স আছে কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে জব্দকৃত তেল সরকারি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।