নাদিয়া জান্নাত
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
১.
বসন্তদিনে
বসন্ততে ফুর্তি লাগে মনে
অফিসগামী পাখিরা সব
উড়তে গিয়ে, অতর্কিতে থামে।
হন্যে হয়ে যোজন হাঁটা হলে
ধিনতা তালে কোকিল দেবে ডাক
কুহক কুহু মনভোলানো ভোরে
বাতাসে আজ বহু রকম বাঁক।
আজ বাতাসে সর্বত্যাগী রোদ
এমন রোদে, ঝড়ের পেলে দেখা
দেহের শাখা দস্যু হতে রাজি,
নিকট ঠেলে দূরের ধুলা এসে
আজ সমীরে পাঠাল তার ধ্বনি!
অনেকখানি বাতাস হলো ফলে
হৃদয় হলো ঘাপটি মারা বাঘ!
খুঁচরো কথা জঙ্গলে থাক পড়ে
মাথার নিচে থাকুক শুধু কাঁধ।
থাকাথাকির উদাহরণ জেনে
আমরা থাকি যোজন কিলো শেষে
শিল্পগীত বসুন্ধরা তবু,
তোমার পথ, কেন্দ্র করে হাসে।
ধ্বংস ধসে মেলানকলি ফিরে
সৌরজগৎ উল্টে যদি যায়
মাতাল বুনো, তুরীয় ঝাঁ ঝাঁ গায়ে
ফাগুনধুলা আটকে রাখা দায়।
২.
লাঞ্চ বক্স
খোয়াব ব্যতীত তুমি নাই
ফলত সন্দেহ হয়, জাপটে ধরা মানবহৃদয়
ভয় নিয়ে তবু ভাবে ভববন্ধনের সব কথা
হেমন্তের বিকিরিত আলো
ঘুমের ভেতর ভালো লাগে
সবজির দাম কমা শীত দেখি,
কিঞ্চিৎ খোয়াবে
দেখি, ধবধবা সাদা মুলা তিতপুঁটিসহ রেঁধে
লাঞ্চ বক্স নিয়ে যাও ভালো আর মন্দে
শরীরের ছন্দ ভালো নেই
তাল-লয় জেনেবুঝে শ্বাস নিতে কষ্ট!
প্রেশারের ওঠানামা টের পেলে
প্রতিরোধে দিই তাকে লাঞ্চ বক্স, তাকে দিতে থাকি
ভব দুনিয়ার টেলিপ্যাথি।
৩.
(জ্বরের ঘোরে আসে ফাগুন মাস)
ভাঙলে যদি এই খেলাঘর, পাখি
চললে হঠাৎ বিজন দিনের পথে
শয্যা শেষের ফুলের নরম ব্যথা
লাগল কোমল ভাঙা ডানার ক্ষতে
নশ্বরতার উল্টাপাল্টা পথে
প্রস্থানে এক আগন্তুকের কথা
মাঘ মাসে কোন খামারবাড়ির মোড়ে
বিড়ম্বনায় বাস ক্রসিংয়ে দেখা
প্রবন্ধ পাঠে যে রকম প্রলোভন
তেমন বাতাস মাঘ ফুরালেই আসে
প্রমত্তা সেই উদাল গাছের বন
তেলেসমাতির মধ্যপর্বে বাঁচে
ভাঙাপর্বে লিখলে ফাগুনগান
দমকা হাওয়া ভাঙতে থাকে ঘর
মোরগফুলের রূপের সুবাস নিয়ে
রাত্রি জাগায় দীর্ঘ দিনের জ্বর।