খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলি-এর ইতিহাসে ২০২২-২৩ মৌসুম এক সোনালি অধ্যায়। ৩৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে সিরি ‘আ’ শিরোপা জিতে দক্ষিণ ইতালির ক্লাবটি ফেরে গৌরবের আসনে। সেই ঐতিহাসিক অভিযানের অন্যতম প্রধান নায়ক ছিলেন নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ভিক্টর ওসিমেন। অথচ শিরোপা জয়ের মাত্র এক বছর পরই ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্ক চরম অবনতির দিকে গড়ায়—এমনকি নিজের ভাষায়, তাকে “কুকুরের মতো” আচরণের শিকার হতে হয়েছে।
২০২২-২৩ মৌসুমে ওসিমেন ছিলেন নাপোলির আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা। গতি, শক্তি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তিনি ইতালিয়ান লিগে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে নিয়মিত ভোগান। মৌসুম শেষে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২৬ (৩২ ম্যাচে), যা তাকে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের শীর্ষে তুলে আনে। দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বীকৃতিও আসে—২০২৩ সালে তিনি আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলারের সম্মান অর্জন করেন।
নিচে ২০২২-২৩ মৌসুমে তার উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| লিগ ম্যাচ | ৩২ |
| গোল | ২৬ |
| অ্যাসিস্ট | ৪ (প্রায়) |
| দলীয় অর্জন | সিরি ‘আ’ চ্যাম্পিয়ন |
| ব্যক্তিগত সম্মান | আফ্রিকান বর্ষসেরা ফুটবলার ২০২৩ |
সাফল্যের সেই মৌসুমের পরই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। ওসিমেনের দাবি, ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার একটি মৌখিক সমঝোতা ছিল—পরবর্তী গ্রীষ্মে তিনি চাইলে অন্য ক্লাবে যোগ দিতে পারবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি নাকি রক্ষা করা হয়নি। ফলে দুই পক্ষের সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি হয়, যা পরে প্রকাশ্য বিরোধে রূপ নেয়।
ওসিমেনের অভিযোগ, তাকে বিভিন্ন ক্লাবে পাঠানোর চেষ্টা চলছিল তার সম্মতি ছাড়াই। এমনকি স্কোয়াড থেকেও তাকে ছেঁটে ফেলা হয়। ইতালির আরেক জায়ান্ট জুভেন্টাস-এ তার সম্ভাব্য যোগদানের গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ইতালিয়ান ক্রীড়া দৈনিক লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি। আমাকে এখানে-ওখানে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমার সঙ্গে কুকুরের মতো আচরণ করা হয়েছে। আমি কারও খেলনার পুতুল নই।”
পরবর্তীতে তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব গালাতাসারাই-এ যোগ দেন ওসিমেন, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম উচ্চমূল্যের ট্রান্সফার হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন দলে যোগ দিয়ে তিনি দ্রুতই নিজের প্রভাব দেখাতে শুরু করেন। সাম্প্রতিক এক উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফ ম্যাচে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ৫-২ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
ওসিমেনের এই স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়-ক্লাব সম্পর্কের জটিল বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর পরও একজন তারকা ফুটবলার কীভাবে প্রশাসনিক টানাপোড়েনের শিকার হতে পারেন—তারই এক স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে রইল নাপোলিতে ওসিমেন অধ্যায়।