খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতীয় র্যাপার বাদশার নতুন প্রকাশিত হরিয়ানভি গান ‘টাটিরি’ ঘিরে শুরু হওয়া তীব্র বিতর্ক এখন আইনি ও প্রশাসনিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে গানটি নিয়ে একাধিক রাজ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর এবার হরিয়ানা পুলিশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গানটির দৃশ্যায়ন ও গানের কথায় নারীদের “ভোগ্যপণ্য” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
১ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর শুরুতে গানটি দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। বিশেষ করে ভিডিওর কিছু অংশে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীদের অশালীন অঙ্গভঙ্গিসহ নাচ দেখানো এবং চটুল গানের কথার কারণে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। এর পরপরই হরিয়ানা নারী কমিশন গানটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় এবং বিষয়টি পুলিশের নজরে আনে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহল থেকে গানটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়। একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠন বাদশার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। এমনকি ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য অপর্ণা যাদব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গানটি নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠান।
হরিয়ানা পুলিশের মহাপরিচালক অজয় সিংঘল জানিয়েছেন, নারী ও শিশুদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন কনটেন্টের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কঠোর এবং জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এ ধরনের কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে পঞ্চকুলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা ইতোমধ্যেই গানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ‘টাটিরি’ সংশ্লিষ্ট বহু কনটেন্ট অপসারণ করা হয়েছে।
নিচের সারণিতে এখন পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
| পদক্ষেপের ধরন | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| অপসারিত মোট কনটেন্ট | ৮৫৭টি |
| ইউটিউব ভিডিও অপসারণ | ১৫৪টি |
| ইনস্টাগ্রাম রিল অপসারণ | ৭০৩টি |
| দায়েরকৃত এফআইআর | একাধিক |
| প্রধান অভিযোগ | নারীদের অশালীন উপস্থাপন |
পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই কনটেন্টগুলো সরানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে গানটি পুনরায় প্রচার না হয় সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চলছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা দ্রুত এ ধরনের কনটেন্ট শনাক্ত করে সরিয়ে দেয়।
হরিয়ানার পঞ্চকুলা জেলার সেক্টর ২০ সাইবার ক্রাইম থানায় অভয় চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি বাদশার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, গানটিতে স্কুলপোশাকে ছাত্রীদের অশালীনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ‘টাটিরি’ গানটি এখন শুধুমাত্র একটি বিনোদনমূলক কনটেন্ট নয়, বরং সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের একটি বড় বিতর্কের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।