খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’র এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম আহসান জহীর খান (৫০)। পুলিশের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে থেকে জঙ্গি সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরেবাংলা নগর থানার জিয়া উদ্যান লেকের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে নাশকতার নীল নকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কয়েকজন জঙ্গি সদস্য গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ঘটনাস্থল থেকে আহসান জহীর খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত আহসান জহীর খান নব্য জেএমবির একনিষ্ঠ অনুসারী এবং সংগঠনের একজন ‘এহসার’ (সক্রিয়) সদস্য। তিনি এবং তাঁর পলাতক সহযোগীরা সাধারণ মানুষের চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতেন। তারা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং বিশেষ করে এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ ব্যবহার করে উগ্রবাদী আদর্শ প্রচার করত। তদন্তে দেখা গেছে, ভিন্ন ভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে তারা গ্রুপ চ্যাট ও ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে নাশকতামূলক কাজের নির্দেশনা আদান-প্রদান করত। মূলত রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
গ্রেপ্তারকৃত আহসান জহীর খানের বিরুদ্ধে অপরাধের পূর্ব রেকর্ড পাওয়া গেছে। জানা গেছে, ইতিপূর্বেও তাঁর বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছিল। বর্তমান নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় নতুন করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে যাতে তাঁর পলাতক সহযোগীদের অবস্থান এবং সংগঠনের পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
নিচে গ্রেপ্তারকৃত আসামির তথ্য ও আইনি পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| গ্রেপ্তারকৃতের নাম | আহসান জহীর খান (বয়স ৫০ বছর)। |
| সাংগঠনিক পদমর্যাদা | নব্য জেএমবি-র ‘এহসার’ (সক্রিয়) সদস্য। |
| অভিযানস্থল | জিয়া উদ্যান লেক এলাকা, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা। |
| যোগাযোগ মাধ্যম | ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও মেসেঞ্জার। |
| আইনি পদক্ষেপ | শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা। |
| পূর্ববর্তী মামলা | ফুলবাড়ীয়া থানা, ময়মনসিংহ (সন্ত্রাসবিরোধী আইন)। |
| মূল অভিযোগ | রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার পরিকল্পনা। |
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিরা সশরীরে উপস্থিত হওয়ার চেয়ে ভার্চুয়াল জগতে বেশি সক্রিয় হচ্ছে। আহসান জহীর খানের মতো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধে একটি বড় সাফল্য। নাগরিকদের সচেতন থাকতে এবং সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি দেখলে অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি।