খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকার ব্যস্ততম রাস্তাগুলোর একপাশে, নিজের ছোটফোনে ফোন ধরেই নাহিদ হাসান বলেন, “না ভাই, অফিসের মিটিং ছিল। এখন ফিরেছি।” কথোপকথনে প্রকাশ পেল, ঢাকায় এসেছেন গান করার স্বপ্ন নিয়েই, কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে সংগ্রামেরও ছাপ রয়েছে। ঠাকুরগাঁও থেকে আসা এই তরুণ শিল্পীর গল্পে আছে সাফল্যের আনন্দ, হতাশা, আর অসংখ্য সংগ্রামের ছাপ—যেমনটি তার গানে প্রতিফলিত।
পরিবার ও গানের সূচনা
নাহিদ পরিবারের প্রথম ব্যক্তি যারা আনুষ্ঠানিকভাবে গান করছেন। তবে বড় চাচা, ভাই-বোনেরা এবং যাত্রাপালার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কলেজে পড়ার সময় বন্ধুমহলে নিয়মিত গান লেখা ও গাওয়া শুরু হয়। কলেজ শেষে ঢাকায় এসে গানের প্রতি তার আগ্রহ আরও দৃঢ় হয়।
প্রথম দুঃখ:
২০১৪ সালে ঢাকায় আসার পর নাহিদ পড়াশোনা করতেন এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কাজ করতেন মোবাইল দোকানে। তিনি নিজের লেখা একটি গান অন্তর্ভুক্ত একটি মিক্সড অ্যালবামে বিনিয়োগ করেন, কিন্তু অ্যালবাম প্রকাশের আগে প্রযোজক আত্মহত্যা করেন। সেই অভিজ্ঞতা নাহিদের জন্য এক মানসিক আঘাতের সৃষ্টি করে।
প্রথম অপ্রকাশিত গান:
শিরোনাম: “কেন এমন হলো”
লেখা ও সুর: নাহিদ হাসান
অবস্থা: অপ্রকাশিত
নতুন শুরু ও সংগ্রাম:
পরবর্তী তিন বছরে নাহিদ ১৬-১৭টি গান লিখে সুর করেছেন। ২০১৭ সালে বনানী সুপার মার্কেটে সংগীতশিল্পী অটমনাল মুনের সঙ্গে দেখা হয় এবং এক বছরের পর নতুন গান রিলিজ হয়। এই সময় নাহিদ মিরপুর ও কেরানীগঞ্জের মধ্যে যাতায়াত করতেন, মাত্র ১০০ টাকায় দিন পার করতেন।
| তারিখ | ঘটনা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ২০১৪ | ঢাকায় আগমন | কলেজ ও কাজ শুরু |
| ২০১৪ | প্রথম অ্যালবামে বিনিয়োগ | প্রযোজকের মৃত্যু, গান অপ্রকাশিত |
| ২০১৭ | অটমনাল মুনের সঙ্গে পরিচয় | নতুন গান রিলিজের প্রস্তুতি |
| ২০১৯ | “তোমার পিছু ছাড়ব না” রিলিজ | আলোচিত গান, নতুন যাত্রা শুরু |
গানের বৈশিষ্ট্য
নাহিদের গানে রয়েছে সমাজ, প্রেম, বিচ্ছেদ, শৈশবের স্মৃতি এবং পরিবারের গল্প। তার প্রকাশিত গানগুলোর মধ্যে আলোচিত হয়েছে “তোমার পিছু ছাড়ব না”, “ঘৃণা থাকুক”, “বাবার সাইকেল” ও “দুঃখ দেওয়ার মানুষ”। মায়ের সাথে সম্পর্কিত গানও অপ্রকাশিত আছে, যা ভবিষ্যতে একটি বিশেষ ইপি আকারে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
সিনেমা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নাহিদ প্লেব্যাক করেছেন “হাওয়াই মিঠাই” গানে। আগ্রহ থাকলেও তিনি কোনো সিনেমায় গানের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। বর্তমান ডিজিটাল যুগে নিজেই গান প্রকাশের সুবিধা থাকলেও শিল্পীর সঙ্গে বিপণনের দ্বন্দ্বও রয়েছে।
নাহিদের একটাই লক্ষ্য—একদিন চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি গানে মন দেওয়া এবং বিশ্বজুড়ে গান করে বেড়ানো। তরুণদের এই অনুভূতি ও বাস্তব সংগ্রামের প্রতিফলনই হয়তো তার গানকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।