পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর নির্মল হালদার ওরফে নির্মল ওজা (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত নির্মল হালদার নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বিপেন হালদারের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘নির্মল ওজা’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক ও আর্থিকভাবে সহায়তাপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো নির্মল হালদার কুড়িয়ানা বাজারে যান। রাত ৮টার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তাকে না পেয়ে ওই রাতেই নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
নির্মলের ভাগিনা দিলীপ হালদার জানান, তার মামার সঙ্গে কারও প্রকাশ্য শত্রুতা ছিল না। তিনি সাধারণত গলায় প্রায় দেড় ভরির দুটি স্বর্ণের লকেট পরতেন এবং ঘটনার দিন তার কাছে কিছু নগদ টাকাও ছিল বলে পরিবারের ধারণা। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় গলায় কোনো স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থও অনুপস্থিত ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্মলের সম্পর্কের ভাই সমীরণ রায় বলেন, নির্মল এলাকায় ‘ওজা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং অনেকের প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা করতেন। মানুষের প্রয়োজনে তিনি প্রায়ই টাকা ধার দিতেন। পরিবারের ধারণা, ঘটনার দিনও তার কাছে টাকা ছিল।
প্রতিবেশী অমল রায় বলেন, নির্মল হালদার এলাকার অনেক মানুষকে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তিনি জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও নির্মল তাকে ৫০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। সোমবার রাতে তার নিখোঁজ হওয়ার খবর শোনার পর সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—
বিষয়
তথ্য
নিহতের নাম
নির্মল হালদার (নির্মল ওজা)
বয়স
৬০ বছর
বাড়ি
পশ্চিম কুড়িয়ানা, আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়ন, নেছারাবাদ
নিখোঁজের সময়
সোমবার রাত ৮টার পর
জিডি করা হয়
সোমবার রাত
মরদেহ উদ্ধারের স্থান
পানাউল্লাহপুর গ্রামের পরিত্যক্ত ঘরের পাশে
উদ্ধারের সময়
মঙ্গলবার সকাল
নিখোঁজ সামগ্রী
স্বর্ণের লকেট, মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ
নেছারাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের অনেকে ধারণা করছেন, নিহতের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ও অর্থের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।