খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুরে নিখোঁজ হওয়া ছয় বছরের কন্যাশিশু শরিফা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে আলিনগর ইউনিয়নের বিজলি পাড়া এলাকায় একটি ধানক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটি দুই দিন আগে নিখোঁজ হয়।
নিহত শরিফা ওই উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের যোগিবাড়ি গ্রামের শহিদুল ইসলামের কন্যা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি গত শুক্রবার নিখোঁজ হয়। শিশুর দাদা আব্দুল করিম শনিবার গোমস্তাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পুলিশের বরাত মতে, হত্যাকাণ্ডে শিশুর দুলাভাই অন্তর ইব্রাহিমকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অন্তর হত্যার সত্যতা স্বীকার করেছে এবং ধানক্ষেতের অবস্থান জানিয়েছে।
শিশুর দাদা আব্দুল করিম বলেন, “শরিফাকে অন্তর সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার তার জামাই রুবেলের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাই। দুপুরের পর শিশুটিকে হত্যা করে ধানক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের লোকজন নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটিকে খুঁজে পাননি। শনিবার সন্ধ্যায় এলাকার তাফসির মাহফিল ও মাইকিং-এর মাধ্যমে খোঁজ করা হলেও কোনো ফল হয়নি। অবশেষে রোববার মরদেহ উদ্ধার হয়।”
আলিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মুহাম্মদ মাসুম বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।
গোমস্তাপুর থানার ওসি নূরে আলম জানিয়েছেন, “নিখোঁজ শিশুর সাধারণ ডায়েরি অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভিকটিমের দুলাভাইকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার প্রাথমিক তথ্যসারণি
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিখোঁজ শিশু | শরিফা খাতুন, ৬ বছর |
| গ্রাম ও ইউনিয়ন | যোগিবাড়ি গ্রাম, বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন |
| উপজেলা ও জেলা | গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ |
| নিখোঁজ হওয়া তারিখ | শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ |
| মরদেহ উদ্ধার | রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ |
| উদ্ধার স্থান | বিজলি পাড়া, আলিনগর ইউনিয়ন, ধানক্ষেত |
| সন্দেহভাজন | অন্তর ইব্রাহিম, দুলাভাই |
| দায়ের জিডি | আব্দুল করিম (দাদা) |
| পুলিশ জড়িত | গোমস্তাপুর থানা, ওসি নূরে আলম |
| স্থানীয় মন্তব্য | চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মুহাম্মদ মাসুম |
পুলিশের তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা শিশু হত্যা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
শিশুর অকাল প্রয়াণ এলাকায় শোকের ছায়া ফেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসন ও পুলিশকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
মোটকথা, এই মর্মান্তিক ঘটনার ফলে গোমস্তাপুরে শিশু সুরক্ষা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।