খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনের ভেতরে অনুমোদনহীন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ মোট আটজন নেতাকে দলটির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট নেতারা দলীয় নীতিমালা ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন, যা দলের শৃঙ্খলা ও ঐক্যের পরিপন্থী।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের পরিচিত ও দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতারা। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁদের অনেকেই মাঠপর্যায়ের সক্রিয় সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে এই বহিষ্কার শুধু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নেতা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। এতে দলের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিল এবং মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল বিষয়টি পর্যালোচনা করে কঠোর অবস্থান নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই সিদ্ধান্ত একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে—দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা অতীতের ত্যাগ যাই হোক না কেন। সামনে জাতীয় রাজনীতিতে দলটির সম্ভাব্য কর্মসূচি ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে নেতৃত্ব ঐক্য ও নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ বিষয়ে এখনো বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও নানা মতামত উঠে আসছে। কেউ এটিকে দলের ভেতরের মতপার্থক্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন, বিএনপি দীর্ঘদিন পর সাংগঠনিক শুদ্ধাচারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিল।
সব মিলিয়ে, নিরবসহ ত্যাগী আট নেতার বহিষ্কার বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দলটির অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও রাজনৈতিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
| ক্রম | নাম | পূর্ববর্তী পদ/পরিচয় |
| ১ | ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা | সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয় নির্বাহী কমিটি |
| ২ | মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন | সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি |
| ৩ | মোহাম্মদ শাহ আলম | সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি |
| ৪ | হাসান মামুন | সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি |
| ৫ | আব্দুল খালেক | সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি |
| ৬ | তরুণ দে | সাবেক সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও মহাসচিব, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট |
| ৭ | সাইফুল আলম নীরব | সাবেক আহ্বায়ক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি |
| ৮ | মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) | সহ-সভাপতি, সিলেট জেলা বিএনপি |
| ৯ | কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ | সভাপতি, বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপি |