খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২৪ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনের সময় বা কোনো উপদেষ্টার পদত্যাগ চায়নি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৈঠকের পর দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার কাছে মূলত দুটি বিষয়ে স্পষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছেন তারা। এক. নির্বাচন কখন হবে? দুই. সংস্কার এবং বিচারের কিছু দৃশ্যমান প্রক্রিয়া।
শনিবার (২৪ মে) রাত সাড়ে ৯টায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি দুইটা বিষয় স্পষ্ট করা দরকার। একটা বলেছি, নির্বাচনটা কখন হবে? আপনি যে সময়সীমা দিয়েছেন, এর ভিতরেই জনগণের কোনো বড় ধরনের ভোগান্তি না হয়ে একটা কমফোর্টেবল টাইমে নির্বাচনটা হওয়া দরকার। দুই নম্বর আমরা বলেছি, এই নির্বাচনের আগে অবশ্যই সংস্কার এবং বিচারের কিছু দৃশ্যমান প্রক্রিয়া জনগণের সামনে আসতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, সংস্কার শেষ না করে যদি কোনো নির্বাচন হয়, এই নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। আবার সব সংস্কার এখন করা সম্ভবও না। মাত্র ৫টা সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তারা হাত দিয়েছেন। এতটুকু নিষ্পত্তি করা দরকার সন্তোষজনকভাবে।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিতর্কিত ৩ উপদেষ্টাকে বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনসহ বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
ঘণ্টাখানেক বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে ব্রিফ করার বলেন, ‘আলোচনার বিষয়বস্তু আমাদের আগে জানানো হয়নি। তবে বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য প্রধান উপদেষ্টাকে দেয়া হয়েছে। বিতর্কিত উপদেষ্টার বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছি। ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছি। যেকোনো উছিলায় নির্বাচন দেরি হলে স্বৈরাচার ফিরে আসার পথ সৃষ্টি হবে। এর দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তাবে।’
‘আমরা বিচারের পক্ষে। তবে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা চাই আমরা। যেই বিচারগুলো বাকি থাকবে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও বিচার চলবে’, যোগ করেন বিএনপির সিনিয়র এ নেতা।
নির্বাচন যত বিলম্ব হবে স্বৈরাচার ফিরে আসার শঙ্কা তৈরি হবে জানিয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। সংস্কার চলমান থাকবে। আমরা ক্ষমতায় গেলেও তা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পর বৈঠক করতে যমুনায় পৌঁছেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, এনসিপির সঙ্গে বৈঠক চলছে।
উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম তিনটি রাজনৈতিক দলের সাথে আলাদাভাবে টানা বৈঠক করলেন প্রধান উপদেষ্টা।