খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ সপ্তাহে বিস্তারিত মন্তব্য করেছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনে মোটামুটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ বজায় থাকলেও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’–এর কোনো উপাদান দেখা যায়নি।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানটি ছিল ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে বলা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অন্য দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। ভোটারদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বড় অংশই ভোট দিয়েছেন। তাই নির্বাচনের অংশগ্রহণযোগ্যতা যথাযথ মাত্রায় ছিল।”
টিআইবি নির্বাচনের জন্য ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসন বেছে নিয়েছে। এই ৭০টি আসনে প্রতিনিধিত্বশীল নমুনায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে মোটামুটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও একাধিক অনিয়ম এবং সহিংসতার ঘটনা উঠে এসেছে।
| বিষয় | ঘটনার সংখ্যা / ঘটনা |
|---|---|
| রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ | ৪৫টি |
| ভোটার–কর্মী–সমর্থকদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন | ৩৪টি |
| বাড়িঘর ও অফিসে হামলা | ১৮টি |
| একই দলের বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ | ১৬টি |
| কেন্দ্র ও ভোটকেন্দ্রে ভোটার বাধা, এজেন্টদের প্রবেশ না দেওয়া | বিভিন্ন কেন্দ্র |
| ভোটের সময় টাকার বিনিময়, ভোটার তালিকার ভুল | বিভিন্ন কেন্দ্র |
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৯৯ শতাংশ প্রার্থীই কমপক্ষে ৫৮টি আচরণবিধির কোনো না কোনোটি লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোয় স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীর ওপর হামলা, ভোটারদের হেনস্থা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, একজনের ভোট অন্যজন প্রদানের মতো ঘটনা ঘটেছে।
টিআইবির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের শুরুতে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতার লক্ষণ থাকলেও ধীরে ধীরে সহিংসতা বেড়েছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা পুরোনো চর্চা অনুযায়ী শক্তি প্রদর্শন, দলীয় কোন্দল ও ক্ষমতার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা চালিয়ে গেছে। ফলস্বরূপ, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সংঘাত ও সহিংসতা অব্যাহত ছিল।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মোটমাট নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হলেও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা এবং ভোটাধিকার রক্ষায় আরও সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভোটের নিরাপত্তা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিরাপত্তা ও ভোটার তালিকার সঠিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।”
এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে টিআইবি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ এবং সহিংসতা রোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছে।
এই প্রতিবেদনে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের পাশাপাশি অনিয়ম, সহিংসতা এবং ভোটার বাধা বিষয়গুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় দিক।