খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার এখন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থবির অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং রপ্তানি নির্ভর পোশাক খাতের চাপ—এই সব বিষয়ই নতুন সরকারের প্রধান দায়িত্বের অংশ।
একটি ওয়েবিনারে বক্তারা বলেছেন, নতুন সরকারের প্রতি ভোটারদের প্রত্যাশা মূলত তিনটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত থাকবে: কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আফটার দ্য ভোট: ডেমোক্রেসি রিফর্ম ফরেন পলিসি’ শীর্ষক সেমিনারে ‘কাউন্টারপয়েন্ট’-এর সম্পাদক জাফর সোবহান উল্লেখ করেছেন, “তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ছিল আন্দোলনের মূল কারণ। নতুন সরকার প্রথমে জনসমর্থনের সুবিধা পাবে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, টাকার মান রক্ষা এবং খেলাপি ঋণ হ্রাস করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পায়।
| দল/জোট | মোট আসন | জয়লাভ আসন |
|---|---|---|
| বিএনপি | ৩০০ | ২০৯ |
| জামায়াতে ইসলামী জোট | ৩০০ | ৭৭ |
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালে ৩.৭ শতাংশে নেমে আসে। এর আগে ২০২৪ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.২ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৫.৮ শতাংশ। চলতি ও পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি কমেছে।
নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানর অভিজ্ঞতা দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে। শহীদ আখতার, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত, বলেন, “নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রজন্মের সমন্বয় রয়েছে, যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত।”
মোডি’সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলার বিচ্ছিন্ন অবনতি এবং পোশাক খাতে শ্রমিক বিক্ষোভ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগ পরিবেশ অস্থিতিশীল হলেও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার এবং বিনিময় হার নমনীয় করার উদ্যোগ ইতিবাচক।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের মতে, বিএনপি বাজারমুখী অর্থনীতি বজায় রাখলেও স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর রপ্তানি আয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাওয়ার পর ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকেরা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেবেন। শেখ হাসিনার পতনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মুখোমুখি হয়েছিল। ঢাকা ইতোমধ্যে তাকে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানিয়েছে।
ও.পি. জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, “দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার কোনো লক্ষণ নেই এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে। অভিন্ন স্বার্থের জায়গায় একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি—এই চারটি ক্ষেত্রেই নতুন সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার ওপর আগামী দিনের রাজনীতি নির্ভর করবে।