খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে আগের নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক) বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। নতুন নীতিতে নীতি সুদহার আগের মতোই ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ঋণ ও বিনিয়োগের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টায় আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা ছাড়া বাকি সব সূচকে মুদ্রানীতি সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা আশা করি, সামনের মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। আমাদের রিজার্ভের অবস্থানও আগের তুলনায় দৃঢ়।”
জানুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে; যা ডিসেম্বরে ছিল ৮.২৯ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ফেব্রুয়ারি ও রমজানের প্রভাবের কারণে মার্চ মাসেও মূল্যস্ফীতির কমার সম্ভাবনা সীমিত হিসেবে দেখছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত তিন মাস ধরে বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
আইএমএফ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতিসুদহার সমন্বয় না করার পরামর্শ দিয়েছে। নতুন নীতিতে অন্যান্য সুদহারও সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
| সূচক | আগের হার | নতুন হার | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| নীতি সুদ (Policy Rate) | ১০% | ১০% | অপরিবর্তিত |
| এসএলএফ (SLF Rate) | ১১.৫% | ১১.৫% | অপরিবর্তিত |
| এসডিএফ (SDF Rate) | ৮% | ৭.৫% | সামান্য হ্রাস |
| বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ (প্রাক্কলন) | ৭.২% | ৮.৫% | ঋণ প্রবাহ বাড়ানো হয়েছে |
বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অবলম্বন করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মূল্যস্ফীতি দ্বৈত অংকে গিয়ে ৯.৫২ শতাংশে পৌঁছালে নীতি সুদ বৃদ্ধি করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সরকারের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অগাস্ট ২০২৪ থেকে কঠোর সংকোচনমূলক নীতি প্রয়োগ শুরু করে। ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি কমে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ৮.১৭ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু পরবর্তী তিন মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে জানুয়ারিতে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়ায়।
গভর্নর মনসুর জানান, “সুদহার যথেষ্ট রাখার কারণে বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহও বাড়ছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি মূলত বাজারে অর্থ সরবরাহের পরিমাণ, ঋণ প্রবাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছয় মাস অন্তর এই নীতি ঘোষণা করে এবং বর্তমান নীতির মাধ্যমে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েছে।