খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এবার সরাসরি ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রধানের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার মাধ্যমে ইরান ইসরায়েলের মূল রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে সতর্কবার্তা দিয়েছে। এ সময়ে কোনও সাধারণ জনসাধারণের হতাহতের তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
পূর্বপ্রসঙ্গ হিসেবে উল্লেখযোগ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ব্যর্থতার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন খামেনি। এ ঘটনার পর ইরানে ৪০ দিনের শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, খামেনির মৃত্যু সত্ত্বেও ইরানে যৌথ হামলার লক্ষ্য পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। একই সঙ্গে, ইরানও সমানভাবে প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১ মার্চ এক ভাষণে বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পবিত্র দায়িত্ব। প্রতিশোধে ইরান সমস্ত সামরিক ও কৌশলগত ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।”
ইরান ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রভাব:
| তারিখ | হামলার ধরন | লক্ষ্যবস্তু | ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ |
|---|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | যৌথ বিমান হামলা | ইরানি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা | কমপক্ষে ৫৫৫ নিহত, ১৩১ কাউন্টি ক্ষতিগ্রস্ত |
| ১ মার্চ | ইরানী প্রতিহামলা | ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য | তথ্য জানা যায়নি |
| ২ মার্চ | খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা | নেতানিয়াহুর কার্যালয়, বিমান বাহিনী প্রধান | তথ্য জানা যায়নি |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের ফলে সাধারণ জনগণের জীবনে প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে।
এই উত্তেজনার পেছনে মূল কারণ হলো পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং খামেনির হত্যার প্রতিশোধ। ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের সংঘর্ষের পরবর্তী ধাপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন দিক নির্দেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ মুহূর্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় উভয় পক্ষের সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।