খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে বাদী ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর বেশ কয়েক দিন অতিবাহিত হলেও মামলার একমাত্র আসামিকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এর ফলে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনতিবিলম্ব আসামিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে সকালে ওই কিশোরী নিজ বাড়িতে একা ছিল। ওই সময় তার দুই ভাই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতে গিয়েছিল এবং বাবা হাওরে ধান কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে, কিশোরীর মা গিয়েছিলেন তাঁর বাবার বাড়িতে।
এই সুযোগে সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে নাজিরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম (২৩) কিশোরীর ঘরে প্রবেশ করেন এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর তিনি গামছা দিয়ে কিশোরীর হাত ও মুখ বেঁধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর পরই ওই দিন বিকেলে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে একমাত্র আসামি করে কলমাকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। ঘটনার পর থেকে আসামি জাহাঙ্গীর আলম পলাতক রয়েছেন। মামলার মূল তথ্যগুলো নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| ঘটনার স্থান | নাজিরপুর ইউনিয়ন, কলমাকান্দা, নেত্রকোনা |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | ১৪ মে, সকাল আনুমানিক ০৭:৩০ মিনিট |
| ভুক্তভোগী | স্থানীয় এক কিশোরী (বয়স: ১৫ বছর) |
| প্রধান আসামি | জাহাঙ্গীর আলম (বয়স: ২৩ বছর) |
| মামলা দায়েরের তারিখ | ১৪ মে (বিকেল) |
| মামলার আইনি ধারা | নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন |
| তদন্তকারী কর্মকর্তা | উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আলম, কলমাকান্দা থানা |
কিশোরীর মা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, ঘটনার পর থেকে আসামিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁদের নিয়মিত ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে। তাঁরা মামলাটি আপস-মীমাংসা করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “আমি গরিব মানুষ। জাহাঙ্গীর আমার মেয়েটির সর্বনাশ করল। এখন তার লোকজন আপস মীমাংসার প্রস্তাবসহ মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতিসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। মামলার পর প্রথম দিকে পুলিশ এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নিলেও পরে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। এ নিয়ে খুব আতঙ্কে আছি। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আসামি জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর বাবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁদের উভয় ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার সার্বিক অগ্রগতি ও আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আলম জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামি জাহাঙ্গীর আলম এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন। তবে তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাদীপক্ষকে হুমকি প্রদান বা আপসের জন্য চাপ প্রয়োগের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভীতি প্রদর্শন বা মামলা প্রত্যাহারের হুমকির বিষয়টি বাদীপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে এখনো জানানো হয়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।