খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বক্তব্য দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এর আগেও পঞ্চগড়ে এনসিপির কর্মসূচির সময় বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। নেসকোর যিনি মালিক, তাকে এবং তার বাবাকেও জবাব দিতে হবে। অনুষ্ঠান চলাকালে বারবার এমন ঘটনা কেন ঘটছে, তারও ব্যাখ্যা দিতে হবে। একদিন বা দুই দিন হলে কিছু বলতাম না, কিন্তু তিন দিনের তিন দিনই এমনটা ঘটেছে। যারা এমন কাজ করছে, তারা রাজনৈতিক দেউলিয়া। এসব রাজনৈতিক অপশক্তিকে আমরা দেখিয়ে দেব, তাদের সাহস কতটা। তাদের দম্ভ আমরা ভেঙে দেব।
শনিবার চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অন্যায়ের প্রতিবাদে সারজিস আলমের নেতৃত্বে পঞ্চগড় শহর থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। ওই লংমার্চ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পঞ্চগড়ের শেরেবাংলা পার্কসংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে সমাপনী বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের নাম উল্লেখ করে সারজিস আলম আরও বলেন, এখন থেকে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান পঞ্চগড়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান আর এখানে থাকতে পারবে না—এটা আমার অঙ্গীকার। যারা ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতি ব্যবহার করছে, তারা বুঝে রাখুক, পঞ্চগড় তাদের জায়গা নয়। আমি প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে তো পরোয়া করি না, তাদের মতো নেসকোর জেলা বা বিভাগীয় কর্মকর্তাদের তো আরও করব না।
তিনি আরও বলেন, যখনই কেউ চাঁদাবাজ, দখলদার, মাদক ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ বা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলে, তখনই কিছু লোকের গায়ে আগুন লাগে। তখনই বাধা দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছি, পঞ্চগড়ের মাটিতে এসব অন্যায়চক্রের কোনো স্থান হবে না। দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, সিন্ডিকেট পরিচালনাকারী, দখলদার ও মাদক কারবারিদের আমরা শান্তিতে থাকতে দেব না। শুধু সময়ের অপেক্ষা—তাদের আসল রূপ প্রকাশ পাবে, আর আমরা তাদের জবাব দেব।
এর আগে শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এনসিপি পঞ্চগড় জেলার উদ্যোগে ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠ থেকে বাংলাবান্ধার উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকটি পিকআপ ও প্রায় পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেল অংশ নেয়। নেতৃত্ব দেন সারজিস আলম নিজে। এ সময় এনসিপির পাঁচ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারীসহ এনসিপি ও জাতীয় যুবশক্তির নেতাকর্মীরাও অংশগ্রহণ করেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন