খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি জুন মাসের শুরুতে বাজারে ছাড়ে ২ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট ৯টি নতুন নোট। নতুন এই নোটগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নোটগুলোতে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন, যেমন কান্তজিউ মন্দির, ষাট গম্বুজ মসজিদ, জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি ও প্রতীক।
তবে এসব পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ নতুন নোটের ডিজাইন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, এসব নোট দেখতে “শিশুসুলভ”, “সেকেলে” এবং “অপরিপক্ব”। এক ফেসবুক ব্যবহারকারী কটাক্ষ করে লিখেছেন, “নোটগুলো এখন ট্রেন বা বাসের টিকিটের মতো দেখায়।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “একটা জাতির সৌন্দর্যবোধ কতটা নিচু হলে এমন শিশুতোষ ডিজাইন জাতীয় মুদ্রায় রূপ পায়?”
নেটিজেনদের অনেকেই দাবি করছেন, এই নোটগুলো ছাপাতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, যা এক ধরনের রাষ্ট্রীয় অপচয়। বিশেষ করে, অর্থনৈতিক সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির সময় এ ধরনের ব্যয়কে ‘অবাস্তব’ ও ‘জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
নোটের মান নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, নতুন নোটের কাগজ নিম্নমানের হওয়ায় এগুলো সহজেই ছিঁড়ে যেতে পারে এবং দেখতে লাঞ্চ কুপনের মতো। অনেকে বলেছেন, নোটে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য বা জলছাপ সেভাবে দৃশ্যমান নয়, ফলে জাল নোট সনাক্ত করাও কঠিন হবে।
তবে বিতর্ক সবচেয়ে বেশি দানা বেঁধেছে বঙ্গবন্ধুর ছবি বাদ দেওয়াকে ঘিরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ জনগণের একাংশ মনে করছেন, এটি জাতির পিতার উত্তরাধিকার মুছে ফেলার পরিকল্পিত উদ্যোগ। তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের কেন্দ্রে অবস্থান করেন। তাঁর ছবি বাদ দেওয়া মানে ইতিহাস থেকে তাঁকে মুছে ফেলার চেষ্টা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন নোটে কোনো ব্যক্তির ছবি না রেখে দেশের ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মতে, এটি জাতীয় পরিচয় আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করার প্রয়াস।
নোট-নকশার বিষয়ে লেখক ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ফাহাম আব্দুস সালাম মন্তব্য করেছেন,
“আর ইউ সিরিয়াস? এটা বাংলাদেশের নতুন নোট? মরমী কবি ল্যাংটা সুলেমান এর চেয়ে সুন্দর ডিজাইন করতে পারতেন। ছি ছি রে ননী ছি!”
অনেকে বলছেন, জনগণের কাছ থেকে যে ডিজাইন কনসেপ্ট এসেছিল, সেগুলোর অনেকটাই ছিল বেশি রুচিশীল ও অর্থবহ। জনমত উপেক্ষা করে গোপনে এমন নোট ছাপানো প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন ডিজাইনারদের একটি অংশ।
নতুন মুদ্রার নকশা ঘিরে গড়ে ওঠা এই বিতর্ক শুধু নান্দনিকতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ছুঁয়ে গেছে জাতীয় ইতিহাস, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ন্যায্যতা—সবমিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে একটি জাতীয় আলোচনার বিষয়। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নোট ছাপা ও প্রচলনের পেছনের উদ্দেশ্যগুলো আরও সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া।
সূত্র: এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণ থেকে তথ্য নিয়ে করা ।
খবরওয়ালা/এমএজেড