খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
নিবন্ধন স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলে সংরক্ষিত থাকবে, তবে এই প্রতীকটি ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বুধবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি কার্যালয়ে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য দেন।
ইসি সচিব জানান, নৌকা প্রতীক ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শুধু বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য, আর এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। তবে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলে এটি সংরক্ষিত থাকবে, অর্থাৎ ভবিষ্যতে যদি পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়, তবে এই প্রতীকটি রক্ষিত থাকবে। কিন্তু, বর্তমানে কেউ এই প্রতীকটি ব্যবহার করতে পারবে না।
এছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়া যে প্রজ্ঞাপন হয়েছে, তার আলোকে নাম ও প্রতীক ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করা হয়েছে। তবে, ‘শাপলা’ প্রতীকটি তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এর আগে, ইসির ওয়েবসাইট থেকে ‘নৌকা’ প্রতীক সরিয়ে ফেলা হয়। ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজার রফিকুল হক জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এটি সরানো হয়েছে।
ইসি থেকে নৌকা প্রতীক সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন— ‘অভিশপ্ত নৌকা মার্কাটাকে আপনারা কোন বিবেচনায় আবার শিডিউলভুক্ত করতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালেন?’
তিনি আরও লেখেন, ‘কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে এবং কাদের দেওয়ার জন্য এই মার্কা রাখছেন আপনারা? পরাজিতদের স্বপ্নের রিফাইন্ড আওয়ামী লীগকে তাদের মার্কা ফিরিয়ে দিতে চান?’
এদিকে, নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ১৪৪টি রাজনৈতিক দলের কোনোটিই ইসির প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-ও রয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, দলগুলোকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে ঘাটতি পূরণের জন্য চিঠি পাঠানো হবে। প্রথম ধাপে ৬২টি দলকে এই চিঠি দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে বাকি দলগুলোকে চিঠি পাঠানো হবে।
এখন দেখা যাক, এই রাজনৈতিক কণ্টকিত পরিস্থিতি কিভাবে পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হয় এবং নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়।
খবরওয়ালা/আরডি