খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২৯ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
পঞ্চগড় জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী এবং সবচেয়ে পুরোনো সাংবাদিকদের সংগঠন পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। বুধবার (২৮ মে) রাতে একদল দুর্বৃত্ত প্রেসক্লাবে তালা দেয় এবং বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা তালা ভেঙে প্রেসক্লাবে অবস্থান শুরু করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জানা গেছে, বুধবার রাতে একদল দুর্বৃত্ত প্রেসক্লাবে অবস্থানকারী সাংবাদিকদের বের করে দিয়ে তালা দেয়। পরে রাতেই বিক্ষুব্ধ পেশাদার সাংবাদিকরা তালা খুলে দেওয়ার দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ মজিদ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কয়েক ঘণ্টা পর জনভোগান্তির কথা বিবেচনায় অবস্থান তুলে নেন বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা।
এ সময় বৃহস্পতিবার সকাল দশটার মধ্যে প্রেসক্লাব খুলে দিয়ে সাংবাদিকদের হাতে চাবি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তা নাহলে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা নিজেরাই প্রেসক্লাবের তালা ভেঙে ভেতরে অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেন। আলটিমেটাম অনুযায়ী সকাল সাড়ে দশটায় তালা ভেঙে প্রেসক্লাবে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা।
এদিকে, প্রেসক্লাবের অন্য একটি পক্ষও দুপুর বারোটায় প্রেসক্লাবে অবস্থান নিলে উভয় গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। এ পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসক প্রেসক্লাবে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লা হিল জামানের উপস্থিতিতে প্রেসক্লাবে সিলগালা করা হয়।
জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর ১৭ বছর সদস্য বঞ্চিত সাংবাদিকেরা প্রেসক্লাবে অবস্থান নিলে পূর্বের নেতৃবৃন্দ পালিয়ে যায়। এ সময় একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে সংঘাত এড়াতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে প্রেসক্লাব পরিচালিত হয়ে আসছে।
এদিকে, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে তালা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। রাতেই তিনি তার ফেসবুকে আইডিতে লেখেন পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে তালা লাগিয়েছেন কারা। তালা দেওয়ার পর থেকেই ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বেশ কিছু সাংবাদিক।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী জানান, দুইপক্ষের মধ্যে সংঘাত এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দুইপক্ষকে ডেকে সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চলছে।
খবরওয়ালা/আরডি