খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম-সমন্বয়ক শামীমা সুলতানা মায়া পদত্যাগ করেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে লিখিত অভিযোগ করার পরও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
দলের প্রধানের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে মায়া লিখেছেন, ‘আমি কাউকে আঘাত করতে চাই না কিংবা কোনো সরাসরি অভিযোগ তুলতে চাই না। তবে সত্য হলো আমি আমার বিবেক, সততা এবং নীতিকে কোনোভাবেই বিসর্জন দিতে চাই না।’ মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে সাংবাদিকদের সামনে তিনি পদত্যাগপত্রটি পড়ে শোনান।
গত আগস্টে দলীয় প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন মায়া। তবে কোনো প্রতিকার না মেলায় তিনি পদত্যাগ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কিছু ছবি ছড়িয়ে দিয়ে ‘আওয়ামী দোসর’ হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়। এসব ছবি রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির শপথ অনুষ্ঠানে তোলা হয়েছিল, যেখানে ছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও তাঁর স্ত্রী শাহীন আক্তার রেনী। মায়ার অভিযোগ, এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি দলীয় সমর্থন পাননি এবং সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে মহানগর কমিটি। এতে জেলা কমিটির নেতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে পারছেন না। একপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে জেলা কমিটিকে পক্ষভূত করছে, প্রশাসনিক কোনো সহযোগিতা দিচ্ছে না এবং ব্যক্তিগতভাবে অপমান করছে। তিনি সতর্ক করেছিলেন, ব্যবস্থা না নিলে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন।
পদত্যাগপত্রে মায়া উল্লেখ করেন, ‘মিথ্যা অভিযোগ, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং নানামুখী কর্মকাণ্ডের কারণে আমি উপলব্ধি করেছি এই পদে থেকে আমার নীতিগত অবস্থান অটুট রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না। যেসব ঘটনা ঘটছে এবং যেভাবে সামাজিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা আমার ব্যক্তিগত আদর্শ ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে।’
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন এনসিপির জেলা ও মহানগর আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর এক সপ্তাহ পর জেলা কমিটিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলাম সাজু সহকর্মী ফিরোজ আলমকে লাথি মেরে আহত করেন। এরপর জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী রাশেদুল ইসলাম পদত্যাগ করেন। তবে নাহিদুলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, মহানগর কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মোবাশ্বের আলী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘জেলা কমিটির মায়া, ফিরোজ আলম ও সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আওয়ামী সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এদের দল থেকে না সরালে জেলা ও মহানগরের অন্য সবাই একযোগে পদত্যাগ করব। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অভিযোগ তোলা হবে। এটি জানাজানি হওয়ায় মায়া আগেভাগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।’
খবরওয়ালা/এন