খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে মাঘ ১৪৩২ | ২৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পদ্মা সেতু চালুর প্রায় সাড়ে তিন বছর পরেও টোল আয় ও যান চলাচল প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছায়নি। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত সেতু থেকে মোট টোল আয় হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। তবে সেতুতে বিনিয়োগকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য যে হারে আয় হওয়ার কথা ছিল, তা এখনও পর্যাপ্ত নয়।
সেতু চালুর পূর্বাভাস অনুযায়ী, পদ্মা সেতুতে প্রতিদিন ২০২২ সালে ২৩,৯৫৪টি যানবাহন চলাচল করবে। ২০২৯ সালে এটি বাড়বে ৩৪,৭২৫টিতে এবং ২০৫০ সালে দৈনিক চলাচল দাঁড়াবে ৬৬,৮২৯টি। তবে বাস্তবে বর্তমানে গড়ে দৈনিক চলাচল হচ্ছে মাত্র ২২ হাজারের মতো যানবাহন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা সর্বাধিক, যা মোট চলাচলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সেতুর আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বড় যানবাহন যেমন বাস, ট্রাক ও মালবাহী যানবাহনের সংখ্যা এখনও কম।
পদ্মা সেতুর দৈনিক যানবাহন ও টোল পূর্বাভাস ও বর্তমান অবস্থার তুলনা:
| বছর | পূর্বাভাস দৈনিক যান | বর্তমান দৈনিক যান | পূর্বাভাস টোল আয় (কোটি টাকা) | বাস্তব টোল আয় (কোটি টাকা) |
|---|---|---|---|---|
| ২০২২ | 23,954 | 22,000 | 1,323 | 1,000 (প্রায়) |
| ২০২৯ | 34,725 | – | 1,804 | – |
| ২০৫০ | 66,829 | – | 3,379 | – |
পদ্মা সেতু পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, যা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটির দায়িত্বে রয়েছে যমুনা সেতু, মুক্তারপুর সেতু, কর্ণফুলী টানেল এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। যমুনা সেতুতে টোল আদায় পূর্বাভাস অনুযায়ী হচ্ছে, তবে কর্ণফুলী টানেল ও মুক্তারপুর সেতুতে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি।
সরকারি বিনিয়োগ মূলত ঋণের মাধ্যমে সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ৩৫ বছরের কিস্তি ভিত্তিক চুক্তি অনুযায়ী, সেতু কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ২,২০৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এছাড়া টোল আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের ব্যয় হয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা এবং আয় থেকে ভ্যাট বাবদ পাওয়া হয়েছে ৩৮৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে আয়-ব্যয় সমন্বয় করলে ৩ হাজার কোটি টাকার আয় থেকে খরচ হয়েছে প্রায় ২,৯৩৩ কোটি টাকা।
সেতু বিভাগের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানাচ্ছেন, দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম না বাড়ায় আশা অনুযায়ী টোল আয় ও যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে না। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এখন অনেক সহজ হয়েছে এবং জমির মূল্য বেড়েছে।
তিনি আরও বলছেন, বর্তমানে টোল আদায়কারী ঠিকাদারের ব্যয় বেশি। চুক্তি শেষ হওয়ার পর সেতু কর্তৃপক্ষ নিজস্বভাবে টোল আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে কিছু খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।