খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে ভাই হত্যার অভিযোগে নতুন এক ঘটনা সামনে এসেছে। এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রইচ উদ্দিন নামে এক কৃষককে তারই ভাই মজনু হত্যা করেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যার পর স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত্যু বলে প্রচার চালানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১১ মার্চ। নিহত রইচ উদ্দিন ও অভিযুক্ত মজনু, দুই ভাই, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে মাছ চাষ এবং ফসলি জমিতে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে জড়িত ছিলেন। এই বিরোধের জের ধরে মজনু, আব্দুল লতিফ ও মোতালেব রইচ উদ্দিনের পুকুর থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ মাছ জোরপূর্বক ধরে ফেলে। বাধা দেওয়ায় রইচ উদ্দিনকে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।
পরিবারের অভিযোগে, ঘটনার তিনদিন পর, ১৩ মার্চ, পুলিশ তার সেচপাম্পের ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের ছেলে সিয়াম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বাবা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ১২০–১৩০ বিঘা ফসলি জমিতে সেচ দিতেন। চাচার কাছে থেকে কেউ পানি নিতে পারত না। এই নিয়েই সংঘর্ষ ও হুমকি চলছিল।”
অভিযোগ ও ঘটনার মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ঘটনা | বিবরণ | তারিখ |
|---|---|---|
| বিরোধের কারণ | পুকুরে মাছ চাষ ও সেচপাম্প নিয়ন্ত্রণ | দীর্ঘদিন |
| প্রথম সংঘর্ষ | পুকুরে জোরপূর্বক মাছ ধরা ও মারধর | ১১ মার্চ ২০২৬ |
| থানায় অভিযোগ | নিহত রইচ উদ্দিন নিজেই লিখিত অভিযোগ দায়ের | ১১ মার্চ ২০২৬ |
| মরদেহ উদ্ধার | সেচপাম্পের ঘর থেকে | ১৩ মার্চ ২০২৬ |
| নিহত | রইচ উদ্দিন, কৃষক, ৬০ বছর বয়সী | ১৩ মার্চ ২০২৬ |
| অভিযুক্ত | মজনু, একই গ্রামের চাচা | ঘটনার সময় উপস্থিত |
মজনু ঘটনার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, “ভাই হয়ে আমি কেন ভাইকে মারব? এখন নানা কথা বলা হচ্ছে, আমরা কিছুই বলতে পারছি না।”
তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, “মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। তার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি সঠিকভাবে তদন্ত না হয়, তবে পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত, যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা যায়।
এই সংবাদটি পরিবারিক বিরোধ ও প্রাচীন সম্পত্তি-সেচপাম্প নিয়ন্ত্রণ দ্বন্দ্বের জটিলতা তুলে ধরছে। মোটামুটি দেখা যায়, এমন ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যা ও বিদ্যুৎস্পর্শের মত ভুল তথ্য প্রচার সাধারণ, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তোলে।