খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঝিনাইদহ জেলায় আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো ও তাতে মালা দেওয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে এই ঘটনাটি ঘটে, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়টি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা এই স্থাপনায় হঠাৎ করে ছবি টাঙানোর বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঝিনাইদহ পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি অমিয় মজুমদার গণমাধ্যমকে জানান যে, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে দলীয় নেতাকর্মীরা শিল্পকলা একাডেমির পাশে অবস্থিত ওই কার্যালয়ে একত্রিত হন। তারা সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি স্থাপন করেন এবং তাতে ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় পৌর আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর পুনরায় সেখানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ভবনটির আসবাবপত্র, এসি এবং দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কার্যালয়টি একটি অস্বাস্থ্যকর ও পরিত্যক্ত স্থানে পরিণত হয়েছিল। নিচে কার্যালয়টির ধ্বংসাত্মক পরিবর্তনের একটি সারসংক্ষেপ প্রদান করা হলো:
| সময়কাল | ঘটনার বিবরণ | বর্তমান অবস্থা |
| ৪ আগস্ট ২০২৪ | গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ | আংশিক ভস্মীভূত |
| ৫ আগস্ট ২০২৪ | সরকার পতনের পর ভাঙচুর ও লুটপাট | আসবাব ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী শূন্য |
| পরবর্তী সময়কাল | ভবন পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থা | দরজা-জানালাবিহীন ধ্বংসস্তূপ |
| ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ঝটিকা উপস্থিতিতে ছবি টাঙানো ও শ্রদ্ধা | নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু |
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই ঘটনার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ঝিনাইদহের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অত্যন্ত গোপনে এবং অল্প সময়ের মধ্যে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড একপ্রকার অনুপস্থিত থাকলেও, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সুযোগ নিয়ে দলটির নেতা-কর্মীরা নিজেদের সরব অস্তিত্ব প্রমাণের চেষ্টা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই ঘটনাকে ‘নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য’ হিসেবে দেখছেন। তারা দাবি করছেন যে, শত প্রতিকূলতা এবং মামলার হুলিয়া মাথায় নিয়েও তারা তাদের আদর্শিক নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পিছপা হননি। তবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানা গেছে। কোনো প্রকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।
পরিত্যক্ত ভবনে মলমূত্র ত্যাগের মতো অমানবিক ও কুরুচিপূর্ণ কাজের অবসান ঘটিয়ে ভবনটির সংস্কার দাবি করেছেন অনেকে, আবার অনেকে মনে করেন এসব কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কৌশল মাত্র। ঝিনাইদহের শান্ত পরিবেশে এমন আকস্মিক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জনজীবনে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।