খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
আগামীকাল শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তুরস্ক। তবে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সংক্রান্ত সুবিধার্থে এবং নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ বজায় রাখার স্বার্থে এই ম্যাচটি উন্মুক্ত স্থানে বড় পর্দায় না দেখানোর জন্য কঠোর নির্দেশ জারি করেছে তুরস্কের কেন্দ্রীয় সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সবকটি প্রদেশের গভর্নরদের প্রতি এই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তুরস্কের বিশ্বকাপ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও যেন কোনো ধরনের বড় পাবলিক স্ক্রিন বা জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোর অনুমতি প্রদান করা না হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন বন্ধ থাকলে উন্মুক্ত স্থানগুলোতে শব্দদূষণ এবং যানজটের তীব্রতা অনেকাংশে কম থাকবে। এই জনাকীর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হলে শনি ও রোববার দেশব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য তা অত্যন্ত সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। তুরস্কে এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষাটি স্থানীয়ভাবে ‘ওয়াইকেএস’ (YKS) নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত। প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দেশের কয়েক লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে থাকেন। উচ্চশিক্ষা স্তরে বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য এই পরীক্ষায় বাধ্যতামূলকভাবে পাস করতে হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারির পূর্বে তুরস্কের বিভিন্ন শহরের স্থানীয় বা পৌর কর্তৃপক্ষ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি শহরের প্রধান চত্বর ও পার্কগুলোতে বড় পর্দায় সরাসরি দেখানোর নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি নির্দেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সমস্ত পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের পূর্বনির্ধারিত বড় পর্দার আয়োজনসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষগুলো জনসাধারণের উদ্দেশ্যে জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় পরীক্ষার সময় যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দদূষণ কিংবা অতিরিক্ত যানজটের কারণে যাতায়াত ও মানসিক মনোযোগের সমস্যার মুখে না পড়ে, সেই লক্ষ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার দেশ তুরস্কে ফুটবল খেলা অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি সাধারণ মানুষের আবেগের সাথে জড়িত। দীর্ঘ ঐতিহাসিক পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত ২০০২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তৃতীয় স্থান অর্জন করার পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দেশটি। তবে এবারের টুর্নামেন্টে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে তুরস্কের অবস্থান বর্তমানে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। গ্রুপ ‘ডি’ (Group D)-তে অবস্থান করা এই দলটি নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২–০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই একই গ্রুপে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও।
এর আগে গত ১৫ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত তুরস্কের প্রথম ম্যাচটি দেশটির রাজধানী ইস্তাম্বুলসহ বিভিন্ন প্রদেশের প্রধান প্রধান স্থানে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল। সেই সময়ে ম্যাচটি উপভোগ করার জন্য বিভিন্ন পাবলিক পার্ক ও উন্মুক্ত চত্বরগুলোতে হাজার হাজার উৎসুক ফুটবল সমর্থকের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় আনতালিয়া প্রদেশে অবস্থিত একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক অ্যাম্ফিথিয়েটারেও বড় পর্দায় ম্যাচটি যৌথভাবে উপভোগ করতে বিপুলসংখ্যক ফুটবল সমর্থক ও দর্শক একসঙ্গে জড়ো হয়েছিলেন। তবে চলমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার এবার সেই ধরনের গণজমায়েত ও উন্মাদনা নিয়ন্ত্রণের পথে হেঁটেছে।