মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। সংঘাতের ১৬তম দিনে পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সময় গতকাল দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব স্থাপনা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ইসরায়েল আরও জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে এই সামরিক অভিযান আগামী কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে ইরান এই হামলাকে ‘উস্কানিমূলক ও অবৈধ আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এমনকি ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার মতো আরেকটি বড় ঘটনা সাজিয়ে তার দায় ইরানের ওপর চাপানোর ষড়যন্ত্র করতে পারে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তিনি ইরানের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কোনো যুদ্ধবিরতির পক্ষে নন। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজন হলে খারগ দ্বীপের মতো কৌশলগত স্থানে আবারও হামলা হতে পারে।” তার এই মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যদি কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা যায় তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। বিশেষ করে মিশর ও ওমান কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু ইরান ও ইসরায়েল নয়, বরং পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
নিচে চলমান সংঘাতের সাম্প্রতিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সংঘাতের সময়কাল | প্রায় ১৬ দিন ধরে চলমান |
| সর্বশেষ হামলার স্থান | পশ্চিম ইরান |
| হামলাকারী পক্ষ | ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী |
| সম্ভাব্য যুদ্ধের সময়কাল | ইসরায়েলের মতে আরও প্রায় তিন সপ্তাহ |
| কূটনৈতিক মধ্যস্থতা | মিশর ও ওমান উদ্যোগ নিয়েছে |
| যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে অনাগ্রহ |
সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কূটনৈতিক সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলও ক্রমশ উদ্বেগ প্রকাশ করছে, কারণ এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।