খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সম্প্রসারণমূলক পদক্ষেপের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। হোয়াইট হাউসের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সোমবার সাংবাদিকদের জানান, “পশ্চিম তীর স্থিতিশীল থাকলে ইসরায়েলও নিরাপদ থাকে। এটি ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সহায়তা করে।”
গত রোববার ইসরায়েলের দক্ষিণপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ নতুন কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। ঘোষণার মধ্যে উল্লেখ করা হয়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও সম্প্রসারিত করা হবে। বিশেষ করে ইহুদি বসতি স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ সহজ হবে। যদিও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই বসতিগুলি অবৈধ।
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এসব উদ্যোগ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করছে এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের ভূমি থেকে উৎখাতের পথ সুগম করছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আটটি দেশও একযোগে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। দেশগুলো হলো: মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের লক্ষ্য—অবৈধ বসতি স্থাপনকে আরও মজবুত করা এবং পশ্চিম তীরে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া।
| দেশ/সংগঠন | পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া |
|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র (হোয়াইট হাউস) | প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পদক্ষেপের বিরুদ্ধে |
| জাতিসংঘ | মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অব্যাহত উদ্বেগ প্রকাশ |
| যুক্তরাজ্য ও স্পেন | সমালোচনা প্রকাশ |
| মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ৮ দেশ | যৌথ নিন্দা, অবৈধ বসতি প্রতিহত করার আহ্বান |
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করছে এবং ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক’ সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এছাড়া, পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের নতুন পদক্ষেপ পশ্চিম তীরে স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করবে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন বসতি স্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াবে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
ফিলিস্তিনি অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘প্রত্যক্ষ দখলদারি সম্প্রসারণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা অঞ্চলটির দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।