খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা, মাঠে দুই দলের ক্রিকেটারদের চোখেমুখে বিষণ্ণতা। পাকিস্তানের ৫ রানের নাটকীয় জয়ের পরও ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় বাবর আজমদের কাঁধ ছিল ঝুলে পড়া। কারণ, এই জয়টি ছিল কেবলই একটি সংখ্যা; বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার যে কঠিন সমীকরণ ছিল, তা মেলাতে ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তান। ফলে সুপার এইটের গ্রুপ-১ থেকে ইংল্যান্ডের সঙ্গী হয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে, পরাজয়ের বেদনায় নীল হয়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা।
সেমিফাইনালে যেতে হলে পাকিস্তানকে কেবল জিতলেই হতো না, শ্রীলঙ্কাকে আটকে রাখতে হতো ১৪৭ বা তার কম রানের মধ্যে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান ২১২ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করালে আশার আলো জেগেছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান তুলে ফেললে পাকিস্তানের নেট রান রেটের সমীকরণ ওলটপালট হয়ে যায়। রান রেটে নিউজিল্যান্ডকে টপকাতে না পারায় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।
পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান লঙ্কান বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। তাদের ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়ে। ফখর জামান ৪২ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আউট হলেও ফারহান তুলে নেন অনবদ্য সেঞ্চুরি।
নিচে ম্যাচের উল্লেখযোগ্য কিছু রেকর্ড ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| ক্যাটাগরি | খেলোয়াড়/দল | অর্জন/রেকর্ড |
| সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি | ফারহান ও ফখর | ১৭৬ রান (বিশ্বকাপ রেকর্ড) |
| এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান | সাহিবজাদা ফারহান | ৩৮৩ রান (বিরাট কোহলিকে টপকে) |
| ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় | সাহিবজাদা ফারহান | ১০০ রান (৬০ বল) |
| এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কা | সাহিবজাদা ফারহান | ১৮টি ছক্কা |
| পাকিস্তানের শেষ ৪ ওভার | ব্যাটিং বিপর্যয় | ৭ উইকেটে মাত্র ৩৪ রান |
২১২ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা এক পর্যায়ে ১০০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল। তখন মনে হচ্ছিল পাকিস্তান হয়তো তাদের কাঙ্ক্ষিত সমীকরণে পৌঁছাতে পারবে। কিন্তু প্রবান রত্নায়েকের ৩৭ বলে ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস পাকিস্তানের সেমিফাইনালের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়। শেষ দিকে অধিনায়ক দাসুন শানাকা একাই লঙ্কানদের জয়ের বন্দরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৮ রান। শাহিন আফ্রিদির প্রথম বলে চার ও পরের তিন বলে টানা তিনটি ছক্কা মেরে শানাকা ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। কিন্তু শেষ দুই বলে প্রয়োজনীয় ৬ রান নিতে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রীলঙ্কা ৫ রানে পরাজিত হয়। বিশেষ করে শেষ বলটি ওয়াইড হওয়ার জোরালো দাবি থাকলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি, যা নিয়ে লঙ্কান শিবিরে অসন্তোষ দেখা গেছে।
পাকিস্তানের ওপেনাররা উড়ন্ত সূচনা দিলেও মিডল অর্ডারের চরম ব্যর্থতা তাদের ডুবিয়েছে। শেষ ৪ ওভারে মাত্র ৩৪ রান তুলতে গিয়ে ৭টি উইকেট হারায় তারা। ফারহান ও ফখর ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। এই ব্যাটিং ধস না হলে পাকিস্তানের স্কোর হয়তো ২৪০ ছাড়িয়ে যেতে পারতো, যা শ্রীলঙ্কাকে অল্প রানে বেঁধে রাখার সুযোগ করে দিত। দুর্দান্ত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও পাকিস্তান দলের এই সমষ্টিগত ব্যর্থতা তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই থামিয়ে দিল।